তাসলিমা নাসরিন: এ বছরের জুলাই মাসে মালালা বলেছিল বিয়েতে সে বিশ্বাসী নয়, সে বুঝতেই পারেনা লোকে কেন বিয়ে করে, বলেছিল ভালোবাসলে বিয়ে কেন, লিভ ইন সম্পর্ক করলেই তো পারে। সেই মালালা ঠিক তিন মাস পর নভেম্বরেই বিয়ে করে বসলো। সে কি প্রেম করে বিয়ে করলো নাকি অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ, কে জানে!
ভেবেছিলাম মেয়েটি অক্সফোর্ডে পড়তে গিয়েছে, সেখানে একসময় পিএইচ ডি করবে, ডক্টরেট করবে। মেয়েটি তো মেয়েদের শিক্ষার কথাই বিশ্ব জুড়ে বলেছে। কট্টর পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মেয়েদের বেশিদূর পড়তে দেওয়া হয় না, সেখানে সর্বোচ্চ শিক্ষা নিয়ে সে মেয়েদের প্রেরণা হবে। নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে, স্বনির্ভর হয়ে মেয়েদের উৎসাহিত করবে। মালালা যে সুযোগ পেয়েছিল সে সুযোগ তো পৃথিবীর অধিকাংশ মেয়ে পায় না। সুযোগের সদব্যাবহার সে করতে পারতো। সে তো শুধু পাকিস্তানের সোয়াত ভ্যালির বালিকা মালালা ছিল না, সে ছিল দুনিয়ার কোটি বালিকার আইকন। কী শিখবে তারা এখন মালালার কাছ থেকে! মেয়েরা যে সমাজে বাল্য বিবাহের শিকার হয়, অল্প বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়, পরনির্ভর জীবন মেনে নেওয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না -- সেই সমাজকে বদলে দিতে পারতো মালালা, কিন্তু সে চেষ্টা কি সে করলো!
ভেবেছিলাম মালালা যেহেতু বুদ্ধিমতি, সে কোনও স্মার্ট হ্যান্ডসাম প্রগ্রেসিভ যুবকের সঙ্গে প্রেম করে তার পছন্দের লিভ ইন সম্পর্ক করবে। যেহেতু ইংরেজের দেশে থাকে, কোনও ইংরেজের সঙ্গেই হয়তো।নিজে অক্সফোর্ডের অধ্যাপক হয়ে অক্সফোর্ডের আরেক অধ্যাপকের সঙ্গেই হয়তো। অথচ সর্বোচ্চ ডিগ্রি না নিয়েই মাত্র ২৪ বছর বয়সে বিয়ে করে বসলো মালালা, তাও এক পাকিস্তানি মুসলিমকে! ওমা, যেইনা আমি টুইটারে আমার বিস্ময় প্রকাশ করেছি, আমাকে ছিঁড়ে খেতে এলো হাজারো তালিবানপন্থী লোক। সে কী কটাক্ষ মানুষের! ছি ছিঃ, সাদাকে বিয়ে করবে, ইংরেজকে বিয়ে করবে, ছি ছিঃ। কেউ কেউ বললো পাকিস্তানিদের মধ্যে কি প্রগতিশীল নেই? বলি নিশ্চয়ই আছে, স্মার্ট হ্যান্ডসাম প্রগ্রেসিভ তো ইমরান খানই ছিলেন! এক ইহুদি মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন! সেই মেয়েকে তো তারপর ইসলাম গ্রহণ করালেন, এখন বাস করছেন এক নিকাবওয়ালির সঙ্গে, চোখ ছাড়া যার আর কিছু দেখা যায় না, যাকে চেহারা না দেখেই ইমরান খান বিয়ে করেছেন, ভবিষ্যত বলে দিতে পারেন মহিলা, এই বিশ্বাস তাঁর।
সাদাকে, ছিঃ সাদাকে কেন বিয়ে করবে মালালা ছিঃ। ছিঃ ছিঃ তে আমার টুইটার ভেসে গেল। কী! এই বর্ণবাদীরা ভুলে গেছে সাদারাই মালালাকে বিখ্যাত বানিয়েছে! সাদারা তার চিকিৎসা করেছে, জীবন বাঁচিয়েছে, সাদারা তাদের দেশে তাকে শুধু নয়, তার পুরো পরিবারকে সারা জীবনের জন্য স্বাধীনভাবে সম্মানের সঙ্গে নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে বাস করার ব্যবস্থা করে দিয়েছে, সাদারা বই লিখে দিয়েছে, ফান্ড গড়ে দিয়েছে, সাদারা নিরাপত্তা দিয়েছে, নিশ্চিন্তি দিয়েছে, নোবেল দিয়েছে। সাদারা সব দেবে, কিন্তু কোনও সাদার সঙ্গে প্রেম করা চলবে না, সাদাকে বিয়ে করা চলবে না। এমন অলুক্ষুণে কথা যে উচ্চারণ করবে, তাকে পায়ে পিষে মারো, তার মুখে বিষ্ঠা ছুড়ে মারো, আইডিতে রিপোর্ট করো, আইডি ব্যান করো। কাল থেকে এই মব -হামলার শিকার হচ্ছি।
মালালা যদি পড়াশোনা আর চালিয়ে না যায়, আমি অবাক হবো না। যদি কিছুদিন পর বোরখা পরে, অবাক হবো না। যদি স্বামীকে তালাক দেয়, তাতেও অবাক হবো না।
খোন্দকার মাহ্ফুজুল হক: একটি পরিবার যখন দারিদ্র্য, বেকারত্ব, খাদ্যসংকট, অসুস্থতা কিংবা আকস্মিক আয়হানির মুখোমুখি হয়, তখন সংকটটি কেবল একজন ব্যক্তির থাকে না—তার প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারের ওপর। তাই সামা ...
সেলিনা আক্তার:শিশুরা ভবিষ্যৎ জাতির রূপকার। একটি দেশ গড়ে তুলতে শিশুদের সুন্দর মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্ব প্রদান করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তাই শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পর ...
একটা সময় ছিল, বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নের সঙ্গে বই, শিক্ষা, জ্ঞান, গবেষণা, খেলাধুলা কিংবা কোনো একটি পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে থাকত। এখন সেই স্বপ্নের জায়গায় ধীরে ধীরে ঢুকে প ...
সাইফুল আলম ছদরুল।।রাজনৈতিক মঞ্চের বাগাড়ম্বর, সুশীল সমাজের চটকদার বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা কিংবা শহরের ঝলমলে রেস্তোরাঁর রঙিন আলোর আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকে এক নির্মম সত্য। যে শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমে নামীদামি ...
সব মন্তব্য
No Comments