ভর্তির নতুন নীতিমালা, প্রথম শ্রেণিতে লটারি, অন্য শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা

প্রকাশ : 14 Oct 2026
ভর্তির নতুন নীতিমালা, প্রথম শ্রেণিতে লটারি, অন্য শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা

স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭’ প্রকাশ করা হয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।


প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন, ফি গ্রহণ এবং ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশ সবই অনলাইনে সম্পন্ন হবে। প্রতি শ্রেণি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা হবে ৫৫ জন। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর বয়স ৬+ বছর ধরা হলেও আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত বয়সের শিক্ষার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবে। বয়স প্রমাণের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ ৫ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া যাবে।


ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণিতে কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ৫টি বিদ্যালয়ে পছন্দক্রম দিতে পারবে। তবে ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে ২টি বিদ্যালয়ের পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কেন্দ্রীয়ভাবে এই লটারির আয়োজন করবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হবে। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমান ৫০ নম্বর, যার মধ্যে বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫ ও গণিত ২০ নম্বর, সময় ১ ঘণ্টা। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমান ১০০ নম্বর, যার মধ্যে বাংলা ৩০, ইংরেজি ৩০ ও গণিত ৪০ নম্বর, সময় ২ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পাঠ্যবই থেকে তৈরি করা হবে এবং তা অবশ্যই মানসম্মত ও শ্রেণি উপযোগী হতে হবে।


আবেদন ফি ও সেশন চার্জ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে আবেদন ফরমের জন্য সর্বোচ্চ ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা নেওয়া যাবে। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারণ করতে হবে।


নীতিমালায় আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে এবং অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অধীনস্থ দপ্তরের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, সহোদর বা সহোদরা শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ শতাংশ এবং যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিজনিত কারণে সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতি শাখায় ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে।


নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন করে পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া তদারকি করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

;