চট্টগ্রামে বিশেষ কনভেনশনে ৬ দফা দাবিতে পদযাত্রা-মহাসমাবেশসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ

প্রকাশ : 13 Oct 2026
চট্টগ্রামে বিশেষ কনভেনশনে ৬ দফা দাবিতে পদযাত্রা-মহাসমাবেশসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ

চট্টগ্রাম অফিস: পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও জাতিসত্তার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে চট্টগ্রামে বিশেষ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে এই কনভেনশনের আয়োজন করা হয়।


আজ মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। কনভেনশনে তিন পার্বত্য জেলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারী, শিক্ষার্থী, যুবক, নারী, কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার ৪ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।


কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক উষাতন চাকমার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব বাবুধন চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভানেত্রী কণিকা দেওয়ান, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলার সংগঠক লাবনী তঞ্চঙ্গ্যা, লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রংধজন ত্রিপুরা, কক্সবাজার জেলার প্রতিনিধি মনি স্বপন চাকমা, সাজেক কারবারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা, ৮৫ নং বর্মাছড়ি মৌজার হেডম্যান নিলাপ্রু মারমাসহ অন্যান্যরা।


কনভেনশনে উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে ৬ দফা দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গঠিত তিনটি কমিটি বাতিল, অপারেশন উত্তরণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১১ দফা নির্দেশনা প্রত্যাহার, সাজেকসহ বিভিন্ন এলাকায় ধরপাকড় ও হয়রানি বন্ধ করে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে রাজনৈতিক মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, বিনা বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, আঞ্চলিক পরিষদে নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়মের তদন্তসহ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা।


কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক উক্ত দাবিতে স্মারকলিপি পেশ, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, দেয়াল লিখন, উঠোন বৈঠক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংহতি সভা, উপজেলা সদরে বিক্ষোভ, জেলা সদরে অবস্থান ধর্মঘট, পদযাত্রা ও মহাসমাবেশ, অবরোধ ও ধর্মঘটের মতো কর্মসূচির ঘোষণা দেন। উপস্থিত সকলে হাত উঁচিয়ে তা সমর্থন জানান।


কনভেনশনের শুরুতে গণসঙ্গীত পরিবেশন করা হয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আত্মোৎসর্গকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সদস্য কবিতা চাকমা।


লিখিত বক্তব্যে উষাতন চাকমা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।


তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকটকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের পরিবর্তে সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মোকাবিলার চেষ্টা অতীতে পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।


অনুষ্ঠানে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি রক্ষা, বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ বন্ধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা পাহাড় ও সমতলে নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।


আলোচনা শেষে প্রতিরোধ সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের পরিবেশনায় একটি নাটিকা মঞ্চস্থ হয়। পরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি চেরাগী পাহাড় মোড় প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।


সম্পর্কিত খবর

;