বানারীপাড়ায় ওসিসহ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজমিস্ত্রির মামলা, তদন্তের নির্দেশ পিবিআইকে

প্রকাশ : 14 Oct 2026
বানারীপাড়ায় ওসিসহ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজমিস্ত্রির মামলা, তদন্তের নির্দেশ পিবিআইকে

স্টাফ রিপোর্টার: বরিশালের বানারীপাড়ায় পোশাকের অপব্যবহার, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অবৈধ আটক ও শিশু সন্তানকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।


বরিশাল ব্যুরো জানায়, বানারীপাড়া উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের ফকিরবাড়ির বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি জালিছ মাহমুদ আদালতে মামলার আবেদন করলে বিচারক তা গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। মামলায় বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদকে সুনির্দিষ্ট এবং ৪-৫ জন পুলিশ সদস্যকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।


মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদী তার স্ত্রী পপি আক্তারকে তালাক দিলে পপি তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সিআর ৪২৩/২০২৫ মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় বাদী বকেয়া খোরপোষ ও দেনমোহরসহ সকল টাকা পরিশোধ করে বিচারান্তে খালাস পান। বাদী জালিছ মাহমুদ ও তার সাবেক স্ত্রী পপি আক্তারের দাম্পত্য জীবনে "হুমায়রা জান্নাত" নামের তিন বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। পপি আক্তার তালাকের পর অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে শিশু কন্যাটি বাবার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল।


অভিযোগে বলা হয়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে ওসির নির্দেশে এসআই মো. জাহিদ ৪-৫ জন পোশাক পরিহিত পুলিশ সদস্য নিয়ে বাদী জালিছ মাহমুদকে তার বাড়ির সামনের রাস্তায় পেয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে কিলঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন। এ সময় সাবেক স্ত্রীর মামলা আছে বলে জোরপূর্বক আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।


মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, বাদী তার নাবালিকা কন্যা সন্তানের আইনানুগ অভিভাবক হওয়া সত্ত্বেও তার অনুমতি ছাড়া মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে এবং থানায় দীর্ঘ সময় আটকে রেখে ওসির নির্দেশে শিশুটিকে সাবেক স্ত্রীর জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে বাদী থানা থেকে ছাড়া পেয়ে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং আদালতে মামলা দায়ের করেন।


মামলায় আইনগত অধিকার লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ আটক এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ এনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় বিচারিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি করা হয়েছে।


এদিকে মামলায় আনীত অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, দুই বছর আট মাস বয়সী কন্যা শিশুটি খুব অসুস্থ। তার মাতৃস্নেহে সুস্থ হওয়া প্রয়োজন। তাই শিশুটিকে চিকিৎসা করিয়ে মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;