টানা তৃতীয় দিনে শত শত আটক

সিইসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল দিল্লির রাজপথ

প্রকাশ : 05 Oct 2026
সিইসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল দিল্লির রাজপথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লি এখন উত্তাল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজপথ দখলে নিয়েছে বিরোধী জোট ও জেন-জি যুব আন্দোলন। রোববার (৪ অক্টোবর) রয়টার্স ও ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হাজার হাজার যুব বিক্ষোভকারী ও বিরোধী সমর্থক দিল্লি এবং মুম্বাইতে একযোগে সমাবেশ করেছে এবং পুলিশ তৃতীয় দিনেও বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।


বিক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে দেশব্যাপী ভোটার তালিকা সংশোধনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ বৈধ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে সুবিধা দেবে, যদিও নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মুম্বাইতে রাজ ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরে নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়েছে এবং তারা সংশোধনী বাতিল করে নির্বাচন কমিশন প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। দিল্লিতে সন্ধ্যার পর থেকেই বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করে এবং কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আটককৃতদের বহনকারী বাস ঘিরে ফেলে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখায়।


পুলিশের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। দিল্লি পুলিশ গত দুই দিন ধরে বিক্ষোভকারীদের জড়ো হতে বাধা দিচ্ছে, বাসে করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় দিল্লিতে গণজমায়েত নিষিদ্ধের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দিচ্ছে। দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়েছে, দিল্লি পুলিশ শুক্রবার যন্তর মন্তরের কাছে বিক্ষোভের ঘটনায় তিনটি এফআইআর দায়ের করেছে এবং দ্বিতীয় দিনেও শত শত মানুষকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুটি এফআইআর পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় এবং একটি কনট প্লেস থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা হয়েছে, যদিও কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়নি।


এদিকে নারী হেনস্তার অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শনিবার প্যাটেল চক মেট্রো স্টেশনের কাছে শুরু হওয়া মিছিলে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি নেহা বোরা, রাজ্যসভার সদস্য কপিল সিবালসহ অনেকে অংশ নেন। পুলিশ বোরা, প্রশান্ত ভূষণ ও যোগেন্দ্র যাদবসহ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করে। এআইএসএ অভিযোগ করেছে নারী বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক ও আইনজীবীদের পুরুষ পুলিশ সদস্যরা হেনস্তা করেছে। এক নারী সাংবাদিক যৌন হেনস্তার অভিযোগ করলে সাংবাদিকরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে বিক্ষোভে বসেন। এ ঘটনায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স-এ পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি দাবি করেছেন।


বিরোধী জোট মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন অফিস পর্যন্ত গণতন্ত্র বাঁচাও মার্চের ডাক দিয়েছে। জেন-জি নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বড় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, মোদির ১২ বছরের শাসনে এটাই সবচেয়ে বড় যুব-নেতৃত্বাধীন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;