ইসরায়েলে সরকার গঠনে অচলাবস্থা কাটেনি, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো শিবির

প্রকাশ : 30 Oct 2026
ইসরায়েলে সরকার গঠনে অচলাবস্থা কাটেনি, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো শিবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলে গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ২৬তম নেসেট নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে গভীর রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন, কিন্তু প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের কেউই তা পায়নি। ৯৩ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় ব্লক পেয়েছে ৫৩ আসন, আর সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন পরিবর্তনপন্থী ব্লক পেয়েছে ৪৮ আসন। বাকি ১৯ আসন গেছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর দখলে, যার মধ্যে রা'আম ৮টি এবং জয়েন্ট লিস্ট ১১টি আসন পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট, জেরুজালেম পোস্ট ও ওয়াইনেট নিউজ জানিয়েছে।


নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখনো প্রায় ৬ লাখ ডাবল-এনভেলপ ব্যালট গণনা বাকি রয়েছে, যার মধ্যে সেনা সদস্য ও নিজ কেন্দ্রের বাইরে ভোট দেওয়া ভোটারদের ভোট রয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। এবারের ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এরই মধ্যে বলেছেন, আরেকটি নির্বাচন এড়াতে সব পক্ষকে খোলা মনে আলোচনা করতে হবে এবং তিনি ফল পাওয়ার পরপরই প্রতিটি দলের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবেন।


সরকার গঠনের প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যাকে দায়িত্ব দেবেন তিনি প্রথম দফায় ২৮ দিন এবং প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় পাবেন। ততদিন পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সামনে কোনো সহজ সমীকরণ নেই। জেরুজালেম পোস্টের ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মহল এখন আইজেনকটকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের পরিকল্পনা প্রচার করছে।


এই পরিকল্পনায় দুটি ফর্মুলা আলোচনায় রয়েছে। একটি হলো প্রধানমন্ত্রিত্বে রোটেশন, যেখানে নেতানিয়াহু প্রায় দুই বছর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং ইরান ইস্যু ও আঞ্চলিক শান্তি উদ্যোগ শেষ করে তারপর আইজেনকটের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। অন্যটি হলো রোটেশন ছাড়া আইজেনকটকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দেওয়া এবং প্রাথমিকভাবে হারেদি দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডায়িজমকে বাইরে রেখে সরকার গঠন করে বাধ্যতামূলক হারেদি সামরিক নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্কিত খসড়া আইন পাস করা। লিকুদ কর্মকর্তাদের যুক্তি, হারেদি দলগুলো চায় আইনটি পাস হোক, কিন্তু তাদের রাব্বিরা চান না এর দায় সরাসরি তাদের ওপর পড়ুক।


তবে আইজেনকট শিবির এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আইজেনকট নির্বাচনের আগে ও পরে বারবার বলেছেন, তিনি কোনোভাবেই নেতানিয়াহুর অধীনে বসবেন না, এমনকি রোটেশনেও না। তার ব্লকের শরিক নাফতালি বেনেট, আভিগদর লিবারম্যান ও ইয়াইর গোলানও একই অবস্থান নিয়েছেন। তাদের একমাত্র ঐক্যবদ্ধ অবস্থান হলো নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো।


অন্যদিকে আইজেনকট যদি আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার করতে চান, তাহলে তার হাতে ৬৭ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসে, কিন্তু সেটিও সহজ নয়। আইজেনকটের ব্লকের চারটি জায়নবাদী দলের মধ্যে তিনটি দল নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার করবে না। এছাড়া নেতানিয়াহু শিবিরও আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতাকে লজ্জাজনক বলে প্রচারণা চালিয়েছে, যদিও ২০২১ সালে বেনেট-ল্যাপিড সরকার রা'আমের সমর্থনে গঠিত হয়েছিল।


বর্তমানে দুটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। একটি হলো রা'আমকে সরকারে নিয়ে জয়েন্ট লিস্টের বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠন, অন্যটি হলো ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ঐক্য সরকার। হারেৎজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ৭ অক্টোবর হামলার পর ইসরায়েলে এটিই প্রথম নির্বাচন, এবং এই ফলাফল নেতানিয়াহুর যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে জনমতের বিভক্তিই প্রকাশ করেছে। যদি কোনো পক্ষই সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়, তবে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনের দিকে যেতে হবে, যা ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পাঁচটি নির্বাচনের অচলাবস্থার পুনরাবৃত্তি হবে।


সম্পর্কিত খবর

;