বুথফেরত সমীক্ষায় ধস নেতানিয়াহু জোটে, ‘নেতানিয়াহু হেরে গেছেন’ বলে ঘোষণা বেনেটের

প্রকাশ : 28 Oct 2026
বুথফেরত সমীক্ষায় ধস নেতানিয়াহু জোটে, ‘নেতানিয়াহু হেরে গেছেন’ বলে ঘোষণা বেনেটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বেয়াহাদ পার্টির প্রধান নাফতালি বেনেট। বুথফেরত সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৬৮ থেকে কমে ৫০-এ নেমে আসার পূর্বাভাস পাওয়ার পর মধ্যরাতে তেল আবিবে দলের সদর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।


বুথফেরত সমীক্ষায় গ্যাডি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি বিরোধী জোটের প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং বেনেটের বেয়াহাদ পার্টি ১২ থেকে ১৩টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সমীক্ষার ফলাফলের পর বেনেট বলেন, ‘ইসরায়েলের জনগণ, তোমাদের মাথা উঁচু রাখো! যারা সেবা করে তাদের জোট খসড়া ফাঁকিবাজদের জোটকে পরাজিত করেছে।’


তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইসরায়েলের জনগণ জেগে উঠেছে এবং কথা বলেছে: নেতানিয়াহু হেরে গেছেন, এবং ৭ অক্টোবরের সরকার বাড়ি ফিরে যাচ্ছে! খসড়া-ফাঁকিবাজ জোট ৬৮টি আসন থেকে ভেঙে ৫০টিতে নেমে এসেছে।’ চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বেনেট বলেন, ‘আমরা ধৈর্যের সঙ্গে প্রকৃত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করব, কারণ এখনও অনেক কিছু পরিবর্তন হতে পারে। তবে ইতিমধ্যে, আমরা, পরিবর্তন চাওয়া জোটের নেতারা, কথা বলছি এবং সমন্বয় করছি।’


নেতৃত্বের ধারা পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে বেনেট বলেন, ‘নেতৃত্ব যা জনগণের কষ্ট শোনে এবং তাদের জড়িয়ে ধরে। ঠিক সেই চেতনাটিই আমরা সারা দেশের তৃণমূল সম্মেলন থেকে ইসরায়েলি পার্লামেন্টে, রাষ্ট্রের নেতৃত্বে নিয়ে আসব।’


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত বুথফেরত সমীক্ষায় কোনো জোটই ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পায়নি। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান ১১ ও বেসরকারি চ্যানেল ১৩-এর সমীক্ষায় আইজেনকোটের জোটকে ৫৩ আসন এবং নেতানিয়াহুর জোটকে ৫০ আসন দেওয়া হয়েছে। চ্যানেল ১২-এর সমীক্ষায় আইজেনকোটের জোট ৫২ আসন এবং নেতানিয়াহুর জোট ৫০ আসন পেয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। তবে নেতানিয়াহুপন্থী চ্যানেল ১৪-এর সমীক্ষায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে, সেখানে নেতানিয়াহুর জোটকে ৬০ আসন এবং আইজেনকোটের জোটকে ৪৩ আসন দেওয়া হয়েছে।


আই২৪নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইজেনকোট ও বেনেট দুজনেই নির্বাচনের ফলকে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে রায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং দ্বিতীয় নির্বাচন এড়িয়ে নতুন জোট গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইজেনকোট বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘নেতানিয়াহু ও ৭ অক্টোবরের সরকারের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অনাস্থা ভোট’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জনগণের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করে নেতানিয়াহু সরকারকে প্রতিস্থাপন এবং সার্বজনীন বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেছেন।


ইয়েনেট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশের দুই ঘণ্টা পর পর্যন্ত বেনেট কোনো মন্তব্য করেননি। পরে মধ্যরাতের অনেক পরে তিনি তেল আবিবে দলের সদর দপ্তরে হাজির হন। সেখানে তিনি তার রাজনৈতিক অংশীদার ইয়াইর লাপিদকে ‘একজন নেতা, একজন ইসরায়েলি দেশপ্রেমিক এবং সত্যিকারের বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন। লাপিদও সমীক্ষা প্রকাশের কয়েক মিনিট পরেই বলেছিলেন, ‘কাউকে বিভ্রান্ত হতে দেবেন না। নেতানিয়াহুর জোট ভয়াবহ পরাজয়ের শিকার হয়েছে। এটি একটি সম্পূর্ণ ধস, এবং জনগণ তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেছে।’


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত এপ্রিল মাসে বেনেট ও ইয়াইর লাপিদ একসঙ্গে বেয়াহাদ পার্টি গঠন করেন। এর আগে লাপিদ ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইয়েশ আতিদ পার্টির নেতৃত্বে ছিলেন। ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে একপর্যায়ে রাজনীতি থেকে বিরতি নিলেও পরে আবার সক্রিয় হন বেনেট।


২০১৩ সালের নির্বাচনের পরও বেনেট ও লাপিদের মধ্যে রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়েছিল। ওই জোট নেতানিয়াহুর সরকারের সময় ‘ভাইদের জোট’ নামে পরিচিতি পায়। এবারের নির্বাচনে বেনেট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসার আশা করেছিলেন, কিন্তু সমীক্ষায় আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টিই বড় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। এর ফলে বিরোধী শিবিরে নেতৃত্বের সমীকরণও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


ভোটের হারও এবার ছিল রেকর্ড। আউটলুক ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোট পড়েছে ৭৭.৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। যদিও চূড়ান্ত ফল এখনও আসেনি, তবে বুথফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরায়েলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের নেতানিয়াহু যুগের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তবে সরকার গঠনের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া কোনো জোটেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হবে।


সম্পর্কিত খবর

;