বিক্ষোভ-সহিংসতা মোকাবিলায় ফ্রান্সে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন, ম্যাক্রোঁর কঠোর হুঁশিয়ারি

প্রকাশ : 24 Oct 2026
বিক্ষোভ-সহিংসতা মোকাবিলায় ফ্রান্সে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন, ম্যাক্রোঁর কঠোর হুঁশিয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার: বিক্ষোভ-সহিংসতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন সরকার। বিক্ষোভকারীদের শনিবারের কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে আজ ২৪ অক্টোবর থেকেই মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। গত সপ্তাহের তুলনায় এবার প্রায় ১০ হাজার বেশি এবং প্রায় ২০ শতাংশ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ। 


ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার নিজের প্রতিরক্ষা পরিষদের (এ পরিষদে শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা রয়েছেন) সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গেও তার আলোচনার পরিকল্পনা ছিল। 


ম্যাক্রোঁ প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠকের পর অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছিল। সংকটের কারণে তিনি এ মাসের শেষের দিকে নাইজেরিয়া ও সেনেগাল সফর স্থগিত করছেন বলেও তার সহযোগীরা জানিয়েছেন। 


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, শনিবার সারাদেশে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হবে। এর সঙ্গে থাকছে এলিট ইউনিট, অশ্বারোহী পুলিশ, হেলিকপ্টার, ড্রোন, সাঁজোয়া যান ও জলকামান। তিনি বলেন, আমরা দাঙ্গাকারী, লুটকারী এবং সহিংসতায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেব না। 


এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে। স্কুলের অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে তাদের আন্দোলন পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয়। গত শনিবার সারাদেশে ৫ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, যেখানে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। 


গত সপ্তাহের সহিংসতার পর থেকে ২ হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিচার মন্ত্রণালয়। বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, আদালত এরই মধ্যে ২১৭ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছে, যাদের প্রায় অর্ধেকেরই আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। 


ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার অপরাধের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোরতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল্ট্রা-লেফট গোষ্ঠীগুলো প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রথমবার বৈঠকও করেছেন তিনি। বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নাথানায়েল কমবারি বলেন, ম্যাক্রোঁ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, কিন্তু তারা সন্তুষ্ট নন এবং সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। 


শনিবারের বিক্ষোভে বেশ কয়েকটি শহরে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের কেবল বাস্তিল থেকে ন্যাশন স্কয়ারের মধ্যে সীমিত রুটে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। লিওঁতে শহরের কেন্দ্রে সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মার্সেইতে প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও পরে ব্যতিক্রম হিসেবে একটি ইউনিয়ন-সংগঠিত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়। 


প্যারিসে শনিবার ল্যুভরসহ বেশ কয়েকটি বড় জাদুঘর বন্ধ থাকবে এবং আর্ট বাসেল মেলা কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 


এদিকে বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে কর্তৃত্ববাদী অনুশীলনের দিকে ঝুঁকে পড়া বলে সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচও ভিড় নিয়ন্ত্রণকারী অস্ত্রে শিশুদের গুরুতর আহত হওয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। 


অতিরিক্ত উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠেছে অরলিয়ঁ শহরে উগ্র ডানপন্থী নেত্রী মেরিন ল্য পেনের ন্যাশনাল র‍্যালি পার্টির সম্মেলন। সেখানে ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ ল্য পেনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, তবে শহরের কেন্দ্রে ওই সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী ছয় মাস পর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, যেখানে জনমত জরিপে ল্য পেন এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। 


সম্পর্কিত খবর

;