সামীনা জান্নাত:
বাংলার প্রকৃতি চিরকালই ঋতুবদলের রঙে রঙিন। ষড়ঋতুর এই দেশে এক ঋতু বিদায় না নিতেই আরেক ঋতু এসে নিঃশব্দে জায়গা করে নেয় প্রকৃতির আঙিনায়। শরতের কাশফুলের শুভ্র সৌন্দর্য ফিকে হওয়ার সাথে সাথে প্রকৃতিও পা বাড়ায় হেমন্তের দিকে। কার্তিক-অগ্রহায়ণের হাত ধরে আসে শীতের দূত হেমন্ত। ঋতুর এই সন্ধিক্ষণে প্রকৃতি ধীরে ধীরে তার রূপ বদলাতে শুরু করে। মাঠে মাঠে সোনালি ধান, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে নতুন ফসলের গন্ধ। দিনের আলোয় উষ্ণতার ছোঁয়া থাকলেও ভোরের শিশির আর হালকা কুয়াশা জানান দেয় ঋতু পরিবর্তনের। সকাল-সন্ধ্যার বাতাসে অনুভূত হয় মৃদু শীতলতা। হেমন্তের এই মৃদু শীতল পরশ যেন প্রকৃতির কানে কানে বলে যায়—শীত আসছে, খুব শিগগিরই।
শীতের আগমনের এই আভাস কেবল প্রকৃতিতেই নয়, আমাদের প্রতিদিনের জীবনেও গভীরভাবে প্রভাব ফেলে; বিশেষ করে আমাদের খাবার টেবিলে। বাজারে আসতে শুরু করে লালশাক, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, শিম আর কচি মটরশুঁটির মতো তাজা সবজি। রান্নাঘরেও শুরু হয় ঋতু বদলের সুবাসিত আয়োজন। গরম ভাতের সঙ্গে ধোঁয়া ওঠা নতুন সবজি পরিচিত স্বাদে যোগ করে এক নতুন ঋতুর নান্দনিক আমেজ।
এই রূপান্তরের হাওয়ায় গ্রামের মেঠো পথ থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত রাজপথ; সবখানেই নামে এক মায়াবী চাদর ও অলস প্রশান্তি। গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়ে যায় গাছিদের খেজুর গাছ কাটার ব্যস্ততা। খুব ভোরে কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে যখন কোমর থেকে ঝুলন্ত হাঁড়ি নামিয়ে আনা হয়, সেই কাঁচা খেজুরের রসের মিষ্টি গন্ধ বাতাসে এক অন্যরকম ব্যাকুলতা তৈরি করে। গ্রামবাংলার গৃহিণীদের ঘরে ঘরে নতুন আমন ধানের চাল গুঁড়ো করার ধুম পড়ে যায়। হেমন্ত তার বিদায়বেলায় প্রকৃতিকে এক অন্য রূপে সাজিয়ে তোলে।
শীতের আগমনের হাত ধরেই বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। অগ্রহায়ণের নবান্ন উৎসবের আনন্দ একটু স্তিমিত হতে না হতেই শীত নিয়ে আসে পিঠা-পুলির মায়াবী আয়োজন। গ্রামীণ উঠোনে কিংবা শহরের ছাদ বা বারান্দায় উনুনের ওপর মাটির পাত্রে তৈরি হতে থাকে ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা আর দুধে ভেজানো পুলি পিঠা। ধোঁয়া ওঠা পিঠার মিষ্টি সুবাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে পরম তৃপ্তি নিয়ে। কুয়াশাঘেরা সন্ধ্যায় বা কনকনে শীতে ভোরের রোদে বসে পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে পিঠা খাওয়ার এই আনন্দ বাঙালির আত্মিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। কেবল অন্দরমহলেই নয়, বাইরেও শুরু হয় শীতকালীন মেলা, সাংস্কৃতিক উৎসব ও চড়ুইভাতির ধুম। প্রকৃতি যখন কুয়াশার চাদর গায়ে জড়ায়, মানুষ তখন উৎসবের আলোয় নিজেকে রাঙিয়ে তোলে। হেমন্তের বিদায় ও শীতের আগমন কেবল ঋতু বদল নয়, এটি বাঙালির প্রাণের এক আনন্দমেলা।
এ সময় ঘরে ঘরে শুরু হয় শীতের প্রস্তুতি। আলমারি থেকে বের হয় হালকা চাদর, রঙিন সোয়েটার, জ্যাকেট বা কম্বল। বাইরের নিস্তব্ধ প্রকৃতির সাথে মিলিয়ে শীতের সকালগুলোও একটু দেরিতে শুরু হতে চায়। শীতের সকালের মিষ্টি রোদে বসে চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া যেন শীতের পদধ্বনির একেকটি চেনা দৃশ্য।
আসলে শীত একদিনে ডানা মেলে আসে না; হেমন্তের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সে প্রকৃতিকে ধীরে ধীরে বুঝিয়ে দেয় তার আগমনের বার্তা। ভোরের এক চিলতে কুয়াশা, গাছের পাতা থেকে টুপটাপ ঝরে পড়া শিশিরবিন্দু, হালকা ঠান্ডা বাতাস আর পিঠাপুলির সুবাস—এই ছোট ছোট সংকেতেই আমরা টের পাই, শীতের চাদর মোড়ানো স্নিগ্ধ দিনগুলো এবার সত্যিই আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে।
-শিক্ষার্থী: ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।
মানিক লাল ঘোষ:বাঙালির রাজনৈতিক মুক্তি, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—এই দুই ক্ষণজন্মা পুরুষ যেন একই সূত্রে গাঁথ ...
আসনাতুল আহাদ:আমরা যেন বসবাস করছি এক অদ্ভুত সমান্তরাল বয়ানে। প্রতিনিয়ত আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠছে অগণিত মানুষের চেনা মুখ আর পরিচয়ের তালিকা। তবু আমরা সব তৃপ্তির আড়ালে টের পাই ভেতরে ভেতরে মানুষ কতটা এ ...
কাজী মামুনুর রহমান মাহিম:সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশের কাজ নয়; অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য তুলে ধরার দায়িত্বও। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিককে প্র ...
নিকোলাস বিশ্বাস:২৪ অক্টোবর “জাতিসংঘ দিবস”। ২০২৬ সালে গোটা বিশ্ব এ দিবসটি পালন করবে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গভীর সংকটের মুখে। যুদ্ধ বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করছে, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্ব ...
সব মন্তব্য
No Comments