২০২৭ সালের রমজান, ঈদ ও শবেকদরের তারিখ ঘোষণা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাবেও একই ইঙ্গিত

প্রকাশ : 25 Oct 2026
২০২৭ সালের রমজান, ঈদ ও শবেকদরের তারিখ ঘোষণা  জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাবেও একই ইঙ্গিত

স্টাফ রিপোর্টার: ২০২৭ সালের ধর্মীয় ছুটির দিন ও মূল ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে কাজাখস্তানের মুসলিমদের ধর্মীয় প্রশাসন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কাজইনফর্ম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, ইসলামিক বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আগামী বছর পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে ৮ ফেব্রুয়ারি এবং মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে ঈদুল ফিতর পালিত হবে ৯ মার্চ। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, রমজানের অন্যতম পবিত্র রাত লাইলাতুল কদর বা শবে কদর পালিত হবে ৫ মার্চ দিবাগত রাতে, অর্থাৎ ৫ থেকে ৬ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে। 


কাজাখস্তানের ধর্মীয় প্রশাসনের প্রকাশিত ক্যালেন্ডারে ঈদুল আজহা সংক্রান্ত তারিখও উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী বছর ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ ১৬ মে থেকে ১৮ মে পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী উদযাপিত হবে। এর আগের দিন, অর্থাৎ ১৫ মে পালিত হবে আরাফাতের দিন। হিজরি সনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তারিখের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে শবে মেরাজ এবং ২২ থেকে ২৩ জানুয়ারি দিবাগত রাতে শবে বরাত পালিত হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ জুন আশুরা এবং ১৪ থেকে ১৫ আগস্ট মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হবে। ক্যালেন্ডারে ২০২৭ সালের ২৪ থেকে ২৫ ডিসেম্বর শবে মেরাজের আরও একটি তারিখের উল্লেখ রয়েছে। 


কাজাখস্তানের মুসলিম ধর্মীয় প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নতুন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ধর্মীয় উৎসব ও দিবসগুলোর নির্ধারিত তারিখ এক দিন আগে বা পরে হতে পারে। অর্থাৎ ঘোষিত এই তারিখগুলো চূড়ান্ত নয়, বরং সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ২০২৬ সালের সঙ্গে তুলনা করে সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই বছর পবিত্র রমজান মাস ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৯ মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল এবং ঈদুল ফিতর পালিত হয়েছিল ২০ মার্চ। 


এদিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গাণিতিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ আগেই প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব বলছে, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। তবে ওই সময় নতুন চাঁদ দেখার ওপরই রমজান শুরুর তারিখ চূড়ান্ত হবে। 


গালফ নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় পবিত্র রমজান মাসের চাঁদের অনুসন্ধান করা হবে। ওই দিন আকাশে চাঁদ দেখা গেলে সেদিন সন্ধ্যায় প্রথম তারাবিহ নামাজ আদায় করা হবে এবং রাতে সেহরি খেয়ে পরদিন সোমবার ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা রাখা শুরু করবেন মুসলিমরা। 


রমজানের স্থায়িত্বের বিষয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মাসটি ২৯ অথবা ৩০ দিনের হতে পারে। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারিত হবে। গালফ নিউজের হিসাবে, রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হলে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে ২০২৭ সালের ১০ মার্চ বুধবার। আবার ২৯ দিনে মাস শেষ হলে ঈদ হতে পারে ৯ মার্চ মঙ্গলবার। এ কারণে কাজাখস্তানের ঘোষিত ৯ মার্চের তারিখের সঙ্গে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ১০ মার্চের পূর্বাভাসের মধ্যে এক দিনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, যা মূলত চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। 


ইসলামিক বর্ষপঞ্জি চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় প্রতি বছর রমজান প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। হিজরি বছর সৌর বছরের চেয়ে প্রায় ১১ দিন ছোট হওয়ায় প্রায় ৩৩ বছরের চক্রে রমজান সব ঋতুতেই ঘুরে আসে। রমজান ইসলামিক বর্ষপঞ্জির নবম মাস এবং মুসলিমদের কাছে বছরের সবচেয়ে পবিত্র সময় হিসেবে বিবেচিত। এই মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু হয়েছিল বলে মুসলিমরা বিশ্বাস করেন। এই মাসে মুসলিমরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন এবং নামাজ, দান, আত্মশুদ্ধি ও পারিবারিক বন্ধনে বেশি গুরুত্ব দেন। 


সম্পর্কিত খবর

;