দলিল ছাড়া রেজিষ্ট্রেশন হয় ডেমরা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে

প্রকাশ : 30 Oct 2026
দলিল ছাড়া রেজিষ্ট্রেশন হয় ডেমরা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে


স্টাফ রির্পোটার: ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে পূর্বের কোন দলিল নেই এমন জমি রেজিষ্ট্রেশন করে দিয়েছেন ঢাকা ডেমরার সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম। শুধু তাই নয়,সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হলেও তিনি প্রতিদিন ১২ টার পর অফিসে আসেন। 

যদিও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী, সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ দপ্তরে উপস্থিত থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

এর আগে এই জমি জাল দলিল দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করতে গিয়ে সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলমের কাছ ধরা খান দলিল লেখক । এ সময় দলিল লেখক ও জমির দাতা গ্রহিতাকে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেন এই সাব রেজিস্ট্রার।

পরবর্তী সময়ে একই জমি দলিল লেখক পরিবর্তন করে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে কমিশনের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন করেন ডেমরার সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।

গত ১৩/৮/২০২৬ তারিখে ঢাকা ডেমরার নরাইবাগ মৌজার এই জমি রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে। জমির দলিল নাম্বার ৭৫৩১/২৬।

জানা গেছে, দুই ভাই, ছয় বোন ও মায়ের অংশের মধ্যে মা ও পাঁচ মেয়ে এক ভাই রেজাউল করিম কে এ জমি লিখে দিয়েছেন। অন্য ভাই মো. নিয়াজ উদ্দীন এ ক্রয় বিক্রয় সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

মূলত এলাকা বাসির সাথে কথা বলে জানা যায়, জমির দাতা ও গ্রহিতার পিতা আব্দুল জব্বার দীর্ঘ দিন চেয়ারম্যান ছিলেন ওই এলকার। সেসময় ক্ষমতা বলে তা দখল করে নেন। পরবর্তী রেকর্ডের সময় নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। কিন্ত জমির প্রকৃত মালিক না হওয়ায় দলিল ছিলো না। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাব রেজিস্ট্রার ৫ লাখ টাকা ঘুষের মাধ্যমে এ জমি রেজিষ্ট্রেশন করে দেন।

শুধু এ জমি নয়, ১৯৯৫ সালে পাওয়ার দেওয়া জমি ২০২৬ সালে এসে রেজিষ্ট্রেশন করে দেন এই সাব রেজিস্ট্রার। নিয়ম অনুযায়ী কারো নামে জমির পাওয়ার দেওয়া হলে পাওয়ার দাতার মৃত্যু হওয়ার সাথে সাথে পাওয়ার বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু এ সাব রেজিস্ট্রার ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে কোন প্রকার ঝাছাই বাছাই ছাড়াই দীর্ঘ ৩২ বছর আগে পাওয়ার নেওয়া ১৩ শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রেশন করে দেন।

উক্ত জমি মো নুরুল আলম পাওয়ার দিয়েছেন আব্দুল্লাহ মোল্লাকে ৩২ বছর আগে। আব্দুল্লাহ মোল্লা গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে নিজ ছেলে ওমর ফারুকের নামে লিখে দেন।

এ ছাড়াও সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম সরকারি কর ফাঁকি দিয়ে নিজের পকেট ভারি করছেন, নিয়ম অনুযায়ী কোন আবাসিক কোম্পানির জমি ক্রয় করার ক্ষেত্রে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা কর জমা দিতে হয়। কিন্তু জাহাঙ্গীর আলম দলিল লেখকদের মাধ্যমে আবাসন কোম্পানির নাম বাদ দিয়ে সাধারন নাগরিকের নামে দলিল করার পরামর্শ দেন। যে টাকা সরকারকে প্রধান করতে হতো কর আকারে সেই টাকার অধেক টাকা সাব রেজিস্ট্রারকে দিতে হয়। তেমনি একটি জমি রেজিষ্ট্রেশন হয় গত সেপ্টেম্বর মাসের ৮ তারিখে। জমির পরিমান সাড়ে চার শতাংশ। জমির দলিল নাম্বার ৮৩৭৫/২৬।

জমির গ্রহীতা নজরুল ইসলাম। আর দাতার নাম আলমগীর।

এছাড়াও সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম সরকারের কোটি কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়ে নিজের পকেট ভারি করছেন। নতুন ফ্ল্যাট পুরাতন দেখিয়ে। নাল জমিতে বাড়ি থাকলেই ১/২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া একাটি হিন্দুদের জমিই অধিকাংশ। নামের সামান্য ভুল হলেই সংশোধন করার পরও সাব রেজিস্ট্রারকে ২০ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ প্রধান করতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখক বলেন, এই দলিল লেখক টাকা ছাড়া কোন কাজ করেন না। ৫০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত ওনি ঘুষ নেন। আর পাঁচ দশ লাখ তো একটু ভুল হলেই নেন।

তবে এ বিষয়ে জানতে সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করে ও তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

সম্পর্কিত খবর

;