নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে

হরমুজ প্রণালী ৭ দিনে খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

প্রকাশ : 25 Sep 2026
হরমুজ প্রণালী ৭ দিনে খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ৭ দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এই প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে পরদিন থেকেই সময়সীমা শুরু হবে এবং সপ্তম দিনে হরমুজ প্রণালী চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং আলোচনা শুরু হবে। এই প্রস্তাবটি তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে একটি প্রাইভেট বৈঠকে বিস্তারিত তুলে ধরেন বলে একজন অংশগ্রহণকারীর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। 


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তার পরিকল্পনাটি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হবে। কাতার এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 


প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এই নতুন প্রস্তাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ৭ দিনের জন্য সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। 


প্রস্তাবটি গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মতো বলে জানিয়েছেন আরাঘচি। ওই সমঝোতায় ৬০ দিনের জন্য আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল, তবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনার কারণে তা ভেস্তে যায়। নতুন প্রস্তাবে সেই সময়সীমা কমিয়ে ৭ দিন করা হয়েছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, নতুন পরিকল্পনায় প্রথমে সংঘাত বন্ধ, তারপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ৭ দিন পর প্রণালী খোলা, এরপর পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছে। 


মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আরাঘচি। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় এই বৈঠক হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আলোচনার সুযোগ থাকলে বার্তা আদান-প্রদান করা হবে। 


তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের জাতিসংঘ মিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম কমাতে এই প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে। 

সম্পর্কিত খবর

;