লুতুব আলি, কলকাতা: বর্ষার আকাশে তখনও মেঘের আনাগোনা। কিন্তু কলা নবগ্রামের জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সংস্থার (ডায়েট) প্রাঙ্গণে সেদিন অন্য বৃষ্টি। রবীন্দ্রনাথের প্রেমের বৃষ্টি আর নজরুলের দ্রোহের বজ্রপাত একসাথে নেমে এসেছিল ‘দুই কবি এক বাংলা’ অনুষ্ঠানের মঞ্চে।
২৭ জুন, শনিবার। দিনটা ইতিহাস হয়ে রইল পূর্ব বর্ধমানের জন্য। কারণ সেদিন শুধু একটা অনুষ্ঠান হয়নি, উন্মোচিত হয়েছে বাঙালির আবেগের নতুন ঠিকানা: ‘কুমুদরঞ্জন মল্লিক মঞ্চ’। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এনসিইআরটি ডিরেক্টর ড. ছন্দা রায় ভার্চুয়ালি ফিতে কেটে যখন মঞ্চের উদ্বোধন করলেন, তখন যেন রবি-নজরুলও হাততালি দিয়ে উঠলেন ওপার থেকে।
দুই কবির বাংলা তো আসলে একটাই। একজন ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ বলে কেঁদেছেন, আরেকজন ‘একই বৃন্তে দুটি কুসুম’ বলে বুকে টেনেছেন। কাঁটাতার যতই থাক, এই দুই মহাপ্রাণের গান-কবিতা আজও পদ্মা-ভাগীরথীকে এক সুরে বইয়ে নিয়ে যায়। কলা নবগ্রামের ডায়েট সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
সকাল ১১টায় মন্ত্র উচ্চারণের মতো শুরু হলো অনুষ্ঠান। সংস্থার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস যখন বললেন, “পাঠ্যবইয়ের বাইরেও একটা বাংলা আছে, সেটা রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের বাংলা”, তখন গোটা প্রেক্ষাগৃহ নিস্তব্ধ। শুধু শোনা যাচ্ছিল সম্প্রীতির স্পন্দন।
তারপর যা হলো, তা শুধু অনুষ্ঠান নয়, একটা বিস্ফোরণ। ‘চিত্রাঙ্গদা’র তলোয়ার ঝলসে উঠল মঞ্চে। নারী যে শুধু প্রেমিকা নয়, সে যে যোদ্ধাও, সেই বার্তা নিয়ে যখন সুনিতা, মীনাক্ষী, চিত্রারা নাচলেন, দর্শক তখন মন্ত্রমুগ্ধ। সুরঙ্গনা, অহনা, পূরবীর কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত যখন বাজল, মনে হলো স্বয়ং কবিগুরু বসে আছেন প্রথম সারিতে। আবার রাজীব, প্রদীপের গলায় নজরুলগীতি যখন ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ ভাঙল, তখন রক্ত গরম হয়ে উঠল তরুণদের।
সমীরণ, অমৃত, আফসাজুরের আবৃত্তিতে কবিতা যেন জীবন্ত হয়ে উঠল। তানিমা খানের আঞ্চলিক কবিতা শুনে গ্রামের মানুষ নিজের কথা খুঁজে পেল। ‘রবি বাউল’ গীতি আলেখ্য আর নাটক ‘ছুটি’ দেখে চোখ ভিজল অনেকের।
অতিথি আসনে ছিলেন শক্তিগড় গভর্নমেন্ট স্পন্সর্ড ইউনিটের পল্লব ঘোষ ও সঞ্জীব কুণ্ডু। আর মঞ্চ আলো করে ছিলেন অধ্যাপিকা সুস্মিতা গুহ সরকার, নাসিমা খাতুন, আগমনী গড়াই, সবিতা কররা। অধ্যাপক সুমন সুর, নীলাদ্রি শেখর দাঁ, অরূপ মহাপাত্রদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করে।
শিক্ষার্থী বরুণ বিশ্বাস ও মিন্টু বিশ্বাসের বক্তব্য শুনে বোঝা গেল, নতুন প্রজন্ম তৈরি। গৌতম দেবনাথ ও ইন্দ্রনীল পাল বলেই ফেললেন, “ট্রেনিং শেষের আগে এমন একটা দিন পাব ভাবিনি। এটা আমাদের জীবনের সম্পদ।”
শহরের মেকি আলোর বাইরে গ্রামবাংলার এই মঞ্চ সেদিন প্রমাণ করল, রবীন্দ্র-নজরুল মরে না। তাঁরা থাকেন শিক্ষকের চকে, ছাত্রের খাতায়, কৃষকের গানে আর এইরকম হাজারটা ‘কুমুদরঞ্জন মঞ্চে’। বিভাজনের এই সময়ে কলা নবগ্রাম চিৎকার করে বলল: বাংলা একটাই, আর তার দুই চোখ রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে এই প্রথম , ভিক্ষুক, অসহায়, দরিদ্র মুসাফির ও পথচারীদের মুখে ভালো মানের খাবার তুলে দিতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার ৫২ জন মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে পঞ্চগড় জেলা শহরে চালু ...
স্টাফ রিপোর্টার: প্রায় তিন সপ্তাহ এগিয়ে আসছে অমর একুশে বইমেলা। ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে আগামী বছর ২০২৭ সালের বইমেলা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি। মাসব্যাপী এই মেলা চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।রোববার (১৮ অক্টোবর) বা ...
মহাসিন মিঞা লিটন, বরিশাল: বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সংরক্ষণ, প্রসার এবং এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৭তম মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা-২০২৬। মৃ ...
স্টাফ রিপোর্টার: মাটি ও মানুষের জীবন, বাংলার লোকঐতিহ্য আর শেকড়ের কথাকে সৃষ্টির ভুবনে ধারণ করা কবি আবদুল হাই মাশরেকীর ১১৭তম জন্মোৎসবের তিন দিনব্যাপী আয়োজন শেষ হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একা ...
সব মন্তব্য
No Comments