ভিসা না দেওয়ায় ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘে আব্বাস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: টানা দ্বিতীয় বছরের মতো যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বিতর্কে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি রামাল্লায় তার কার্যালয় থেকে ধারণকৃত ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভাষণ দিয়েছেন। ভিসা না দেওয়ার এই পদক্ষেপকে তিনি বেআইনি এবং আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
ভাষণে আব্বাস মার্কিন প্রশাসনের প্রতি এই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাহার করে সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মানের ভাষায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ের মুখোমুখি।
আব্বাস বলেন, গাজার ফিলিস্তিনিরা হত্যা, ধ্বংস, অনাহার, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার চেষ্টা এবং গণহত্যার যুদ্ধের শিকার হচ্ছে। একইসঙ্গে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পূর্ব জেরুজালেমকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে এবং দখলদার বাহিনীর ছত্রছায়ায় বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসবাদ বাড়ছে। ভূমি চুরি, বাড়ি ভেঙে ফেলা, সড়ক অবরোধ এবং অনুপ্রবেশের মতো অপরাধ অব্যাহত রয়েছে।
গাজা এবং পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে যা ঘটছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের জীবন কঠিন করে তুলতে এবং তাদের জোরপূর্বক নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করতে একটি বিদ্বেষপূর্ণ ঔপনিবেশিক পরিকল্পনার অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আর কতদিন কিছু রাষ্ট্র ইসরায়েলের বিষয়ে নীরব থাকবে বা আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করবে।
আব্বাস জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ২৮০৩-কে স্বাগত জানিয়েছিলেন, যা ওই পরিকল্পনাকে সমর্থন করে এবং সব পক্ষকে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এর কোনো বাস্তবায়ন দেখেননি।
২০২৭ সালে শেষ হতে যাওয়া একটি ক্রান্তিকালীন সময়ের আর এক বছর বাকি থাকতে, তিনি দ্বিতীয় পর্যায়টি বিলম্ব না করে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান, যাতে পূর্ব জেরুজালেমসহ গাজা ও পশ্চিম তীর এক রাষ্ট্র, এক সরকার, এক আইন এবং অস্ত্রের ওপর একক বৈধ কর্তৃত্বের অধীনে পুনরায় একত্রিত হয়।
তিনি ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিষয়ে সতর্ক করেন, যা পূর্ব জেরুজালেমকে বাকি ফিলিস্তিন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে বলে তিনি মনে করেন এবং বসতি কার্যক্রম বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ২৩৩৪ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-কে অব্যাহত সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শরণার্থী প্রশ্ন অমীমাংসিত থাকা পর্যন্ত এই সংস্থার কোনো বিকল্প নেই। একইসঙ্গে ইসরায়েলের কাছে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফিলিস্তিনি তহবিল মুক্তির দাবি জানান।
দুই-রাষ্ট্র সমাধানের মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে নিউইয়র্ক ঘোষণাকে সাধারণ পরিষদ অনুমোদনের এক বছর পর আব্বাস বলেন, তারা তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। তিনি ইউনেস্কোর সহযোগিতায় সরকারি অর্থ, সামাজিক সুরক্ষা এবং স্কুল পাঠ্যক্রমের সংস্কারের উদাহরণ দেন।
তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ২৮ নভেম্বর আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এরপর ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিষদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নবায়ন করা হবে।
আব্বাস বলেন, আমরা এমন একটি গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র চাই যা আইনের শাসন ও মানবাধিকারকে সম্মান করে — ইসরায়েল রাষ্ট্রের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও শান্তিতে বসবাসকারী একটি নিরস্ত্র রাষ্ট্র। তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া ১৬০টি রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান এবং অন্যদেরও অনুসরণ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে জাতিসংঘে পূর্ণ সদস্যপদের আহ্বান জানান।
ভাষণের শেষে তিনি বলেন, আমরা আমাদের মাতৃভূমি ছাড়ব না। আমরা বাস্তুচ্যুতি মেনে নেব না। আমরা কাউকে আমাদের পক্ষে আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দেব না।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ইসফাহানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার যমজ দুই বোনের একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যজনকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সং ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ৭ দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস ...
বিশেষ প্রতিনিধি: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিণতিগুলোর একটি হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, যা কিছু দেশের জন্য এখন অস্তিত্বের হুমকি। এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে বৃহস ...
বিশেষ প্রতিনিধি, নিউইয়র্ক: ইয়েমেনের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ রাষ্ট্রকে পুনরুদ্ধার করা - জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চ-পর্যায়ের বিতর্কে এমনটাই বলেছেন দেশটির প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্ ...
সব মন্তব্য
No Comments