তিন মোটরসাইকেলে এসে হামলা

উত্তরা-এয়ারপোর্ট সড়কে সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই

প্রকাশ : 10 Aug 2026
উত্তরা-এয়ারপোর্ট সড়কে সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর উত্তরায় ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়ার পথে ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দর থানার র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে। টাকা বহনকারী গাড়ির গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার পর তিনটি মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান ও পুলিশ।


পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএল ফিলিং স্টেশনের প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিনের বিক্রির টাকা সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুই দিনের বিক্রির টাকা পরবর্তী কর্মদিবস রোববার একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছিল। এ কারণেই ওই দিন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি টাকা বহন করা হচ্ছিল।


পাম্প কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে দুই দিনের লেনদেনের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য একটি গাড়িতে করে নেওয়া হচ্ছিল। বিমানবন্দর সড়কে র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত গাড়িটির গতিরোধ করে। প্রথমে তারা গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটি থামায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়। হামলার পর দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।


পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার দুই দিনের টাকা একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দিতে নেওয়া হচ্ছিল। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে হামলা করে টাকাগুলো ছিনিয়ে নেয়।


পুলিশের ধারণা, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ফিলিং স্টেশনের টাকা ব্যাংকে নেওয়া হতো—এই তথ্য ছিনতাইকারীদের কাছে আগে থেকেই ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে রোববার দুই দিনের টাকা একসঙ্গে নেওয়া হবে—এ তথ্য দুর্বৃত্তরা কীভাবে জানল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।


ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। টাকা বহনের নির্দিষ্ট সময় ও রুট সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করে ছিনতাইকারীরা হামলা চালিয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলোর তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।


পুলিশের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, এখনো ছিনতাইয়ে জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে টাকা উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর থানার ওসি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনার আশাবাদও জানিয়েছে পুলিশ।


উল্লেখ্য, ডিএল ফিলিং স্টেশনটি উত্তরা এলাকার নতুন বিমানবন্দর সড়কে অবস্থিত। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ঢাকার ফিলিং স্টেশনের তালিকাতেও ‘মেসার্স জি. এফ. ট্রেডিং (ডিএল ফিলিং স্টেশন)’ নামে প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখ রয়েছে।


ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন নগরীর ব্যস্ত বিমানবন্দর সড়কে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিয়মিত একই সময়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ব্যাংকে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা, রুট পরিবর্তন এবং অর্থ পরিবহনের পদ্ধতি আরও সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে। তবে ছিনতাইয়ের সঙ্গে কারা জড়িত এবং টাকা কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সম্পর্কিত খবর

;