স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, সঠিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এর মধ্যেই সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের পরপরই সফর প্রসঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে দুই দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে।
সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকার এবং বিমসটেকের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমন্ত্রণ রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের দিনই তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তবে এসব আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎটি এমন এক সময়ে হলো, যখন ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলেও এখন উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সোমবারের সাক্ষাতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গও এসেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ভারতকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল সাড়া দেবে বলে বাংলাদেশ আশা করছে। একই সঙ্গে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে গত রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বৈঠকে দুই পক্ষের কর্মকর্তারা শুরুতে উপস্থিত থাকলেও পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনার একান্তে আধা ঘণ্টার বেশি সময় আলোচনা করেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে। বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল।
এরপর সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গেও বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তিনটি বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী মনোভাব নিয়ে কাজ করার ভারতের আগ্রহের কথা জানান। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদীও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ভারতের আমন্ত্রণ আগে থেকেই রয়েছে। দুই দেশের নেতারা একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। তার ভাষায়, দুই দেশেরই নিজস্ব ইস্যু থাকবে, তবে জনগণের স্বার্থে ভালো সম্পর্কই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
তবে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর কবে হতে পারে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ থাকলেও ঢাকা শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক তৎপরতাও তাৎপর্যপূর্ণ। গত ২৫ জুন তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করে ঢাকায় ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৯ জুলাই প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর রোববার ও সোমবার ধারাবাহিকভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন তিনি।
কূটনৈতিক অঙ্গনে দীনেশ ত্রিবেদীর ধারাবাহিক বৈঠককে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, প্রত্যর্পণ ইস্যু, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক যোগাযোগ—সবকিছু মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
সোমবার ঢাকায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করে দীনেশ ত্রিবেদী নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তার এই দিল্লি যাত্রা পূর্বপরিকল্পিত ছিল। তবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর বিস্তারিত বার্তা তিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেবেন কি না—এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে ঢাকার পক্ষ থেকেও সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। একই সঙ্গে একে অপরের সংবেদনশীলতার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল থেকেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও ঢাকা-দিল্লি যোগাযোগে গতি বাড়ছে। ভারতীয় হাইকমিশনারের পরপর কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং সফর শেষে তার নয়াদিল্লি যাত্রা দুই দেশের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য সময়সূচি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ নেই।
স্টাফ রিপোর্টার: এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের তিন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে নয়াদিল্লির উ ...
স্টাফ রিপোর্টার: আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার ১৬তম বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ভিসা নীতিমালা-২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থানকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করা ...
স্টাফ রিপোর্টার: মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গীকার এবং মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং নিশ্চিতকরণ রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য। এছাড়া জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণাসহ মানব ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যেই ঢাকায় এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং—‘র’ বা RAW-এর প্রধান পরাগ জৈন। চার সদস্যের উচ্চপর্ ...
সব মন্তব্য
No Comments