এক দিনের ব্যবধানে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তিন বৈঠক

হঠাৎ দিল্লি কেনো ভারতীয় হাইকমিশনার?

প্রকাশ : 11 Aug 2026
হঠাৎ দিল্লি কেনো ভারতীয় হাইকমিশনার?

স্টাফ রিপোর্টার: এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের তিন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন ভারতের এই কূটনৈতিক প্রতিনিধি।


সোমবার দুপুরে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর তিনি বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে। এর আগে রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। ফলে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সরকারের পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান—তিন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাঁর ধারাবাহিক বৈঠক নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।


তবে এসব বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে বৈঠকগুলোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, নিশ্চিত তথ্য ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো বিষয়কে আলোচনার এজেন্ডা হিসেবে দেখানো যাচ্ছে না।


সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে ইতিবাচক বার্তা


দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে আসছেন।


গত ২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ত্রিবেদী। তখন তিনি বলেছিলেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা সম্ভব নয়। দুই দেশের সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত উভয় দেশের জনগণের কল্যাণ।


ওই বৈঠকের পর ত্রিবেদী আরও জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে। নয়াদিল্লি বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।


তিস্তা-গঙ্গা ও দ্বিপক্ষীয় ইস্যু


ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জুলাইয়ের বৈঠকে তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টনসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ত্রিবেদী তখন জানান, পানি ইস্যুতে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে এবং আলোচনার মাধ্যমে অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও এর আগে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কিছু ‘অস্বস্তি’ দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। ফলে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতায় এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।


তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে আগ্রহ


দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতীয় হাইকমিশনার এর আগে জানিয়েছিলেন, নয়াদিল্লি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সফরের সময়সূচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের ওপর নির্ভর করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ওই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে বাসসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


নতুন হাইকমিশনার, নতুন পর্যায়ের সম্পর্ক


দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা। এপ্রিল মাসে তাঁকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানায় নয়াদিল্লি। তিনি প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হন। ত্রিবেদীর নিয়োগকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়, কারণ তিনি একজন ক্যারিয়ার কূটনীতিকের পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিন ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।


জুনে বাংলাদেশে এসে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। এরপর থেকেই বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর ধারাবাহিক যোগাযোগ শুরু হয়।


এক দিনের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দীনেশ ত্রিবেদীর নয়াদিল্লি যাত্রা তাই বিশেষ নজর কেড়েছে। তবে এসব বৈঠকে নির্দিষ্টভাবে কোন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা হয়েছে, তা জানতে দুই দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।

সম্পর্কিত খবর

;