ব্ল্যাঙ্ক চেকে মিথ্যা মামলা ঠেকাতে এনআই আইনের সংশোধনের দাবি

প্রকাশ : 06 Aug 2026
ব্ল্যাঙ্ক চেকে মিথ্যা মামলা ঠেকাতে এনআই আইনের সংশোধনের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের (এনআই অ্যাক্ট) ১৩৮ ধারার অপব্যবহার করে ব্ল্যাঙ্ক চেকে ইচ্ছামতো অর্থের অঙ্ক বসিয়ে হয়রানিমূলক মামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা শচীন্দ্র নাথ শীল। এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে আইন সংশোধন, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শচীন্দ্র নাথ শীল। এ সময় স্কুলশিক্ষক অনন্ত তরফদার উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শচীন্দ্র নাথ শীল বলেন, ২০১৩-১৪ সালে তার স্ত্রী জ্যোৎস্না সরকার পারিবারিক প্রয়োজনে তার অজান্তে কয়েকজন সহকর্মীর কাছ থেকে সুদে টাকা ধার নেন। পরে উচ্চ সুদের চাপ সামাল দিতে তিনি আরো কয়েকজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ২০১৯ সালে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। অথচ প্রায় ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরও কয়েকটি ব্ল্যাঙ্ক চেক ফেরত না দিয়ে সেগুলোতে ইচ্ছামতো অর্থের পরিমাণ বসিয়ে তার স্ত্রীকে আসামি করে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় একাধিক মামলা করা হয়েছে। 

শচীন্দ্র নাথ শীল অভিযোগ করেন, কয়েকজন ঋণদাতার সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলেও কিছু ব্যক্তি ওই ব্ল্যাঙ্ক চেক ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করছেন। তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবিতে পৃথক মামলা করেছেন। অথচ এসব অর্থ ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থের বৈধ উৎস, আয়কর নথি কিংবা কোনো লিখিত চুক্তিপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার বর্তমান বিধানের কারণে ব্ল্যাঙ্ক চেকে ইচ্ছামতো অঙ্ক বসিয়ে মামলা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং প্রকৃত ন্যায়বিচার ব্যাহত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে শচীন্দ্র নাথ শীল দাবি করেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় আবেদন করেও প্রতিকার না পেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন। পরে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তার আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশনা দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার অপব্যবহার রোধে আইন সংশোধন, চেক-সংক্রান্ত মামলায় দাবিকৃত অর্থের বৈধ উৎস যাচাই বাধ্যতামূলক করা এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

সম্পর্কিত খবর

;