আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ইসফাহানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার যমজ দুই বোনের একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যজনকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। নির্যাতনের অভিযোগে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম আরএফই/আরএল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতার দুই বোনের নাম তারানে রহিমি এবং রোমিনা রহিমি। জানুয়ারি মাসে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষের জেরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে ইসফাহানের শোহাদা স্কোয়্যারে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন তারা। পরিবারের দাবি, তখন তারা স্কুলের ছাত্রী ছিলেন এবং এর আগে কখনও বিক্ষোভে যোগ দেননি।
পরিবারের অভিযোগ, ৮ এবং ৯ জানুয়ারির বিক্ষোভের পর মুখোশধারী ব্যক্তিরা বাড়ির বিছানা থেকে দুই বোনকে তুলে নিয়ে যায়। পরে জানা যায়, তারা ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সদস্য। গ্রেফতারের পর তাদের মাথা বস্তা দিয়ে ঢেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি। টানা চার মাস ধরে ইসফাহানের হাসপাতাল, থানা ও কারাগারে মেয়েদের খুঁজেছেন তাদের মা মারজিয়া নূরমহম্মদি।
প্রায় ৫ মাস পর দৌলতাবাদ কারাগারে তাদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পায় পরিবার। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের তুতো ভাই মাসুদ নূরমহম্মদি আরএফই/আরএল-কে বলেন, কারাগারে যখন মা তাদের দেখেন, তখন মুখমণ্ডল ছিল ফোলা ও ক্ষতবিক্ষত। কনুই, আঙুলের গাঁট ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মাথার কিছু অংশের চুল উপড়ে ফেলা হয়েছিল। তার অভিযোগ, কারারক্ষীরা চুল ধরে টেনে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতেন।
পরিবারের আরও অভিযোগ, তাদের আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখার একটি কেন্দ্রে তিন মাস রাখা হয়। সেখানে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছিল এবং একে অপরের চিৎকার শুনতে বাধ্য করা হতো। তারানেকে পায়ে বারবার লাঠির আঘাত করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় হাঁটুতে চাপ দেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি। আরএফই/আরএল জানিয়েছে, তারানের পায়ে আগে অস্ত্রোপচার হয়েছিল এবং স্ক্রু ও প্লেট বসানো ছিল, নির্যাতনের পর তার হাঁটতে না পারার কথা ফোনে জানিয়েছিলেন তিনি।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো যৌন নির্যাতনের হুমকি। পরিবারের বরাত দিয়ে আরএফই/আরএল জানিয়েছে, স্বীকারোক্তিতে সই করতে অস্বীকার করলে তারানের সামনেই রোমিনাকে যৌন নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতে দেখানো স্বীকারোক্তি নির্যাতনের মাধ্যমে জোর করে আদায় করা হয়েছিল।
এই মামলায় ইসফাহানের বিপ্লবী আদালতের ১ নম্বর শাখা ১৬ জনকে বিচারের আওতায় আনে। তাদের বিরুদ্ধে মোহারেবেহ বা সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস, জমায়েত ও ষড়যন্ত্র এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয়। ওই বিক্ষোভ চলাকালে দুজন প্রাণ হারান, যাদের একজন ছিলেন রেভোলিউশনারি গার্ডের সদস্য। অভিযোগে বলা হয়, শোহাদা স্কোয়্যারের কাছে একটি জুতার দোকানে মলোটভ ককটেল তৈরি করা হয়েছিল।
জুলাই মাসে কারাগারের ভেতরে থাকা আদালতে তাদের হাজির করা হয় এবং আগস্টের শেষে রায় দেওয়া হয়। এতে তারানে রহিমিকে মৃত্যুদণ্ড এবং রোমিনা রহিমিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য ৮ জনকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়ে-ভিত্তিক হেঙ্গাও এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক এইচআরএএনএ মানবাধিকার সংস্থা। পরিবারের দাবি, সাজা ঘোষণার দুই সপ্তাহ পরও আইনজীবীদের মামলার নথিপত্র পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার। তাদের পক্ষে ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবীরা জাতিসংঘের বিশেষ প্রক্রিয়ায় তথ্য জমা দিয়েছেন। মাসুদ নূরমহম্মদি বলেন, তিনি শান্তিপূর্ণ ও আইনি পথে বোনদের মৌলিক অধিকার, সুষ্ঠু বিচার, নির্যাতন থেকে সুরক্ষা এবং চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার দাবি জানাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: টানা দ্বিতীয় বছরের মতো যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বিতর্কে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি রামাল্লায় তার কা ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ৭ দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস ...
বিশেষ প্রতিনিধি: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিণতিগুলোর একটি হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, যা কিছু দেশের জন্য এখন অস্তিত্বের হুমকি। এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে বৃহস ...
বিশেষ প্রতিনিধি, নিউইয়র্ক: ইয়েমেনের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ রাষ্ট্রকে পুনরুদ্ধার করা - জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চ-পর্যায়ের বিতর্কে এমনটাই বলেছেন দেশটির প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্ ...
সব মন্তব্য
No Comments