মিশর সীমান্তের কাছে সুদানের সোনার খনিতে বিমান হামলায় ৭২ জন নিহত, আহত অর্ধশতাধিক

প্রকাশ : 12 Oct 2026
মিশর সীমান্তের কাছে সুদানের সোনার খনিতে বিমান হামলায় ৭২ জন নিহত, আহত অর্ধশতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সুদানের উত্তরাঞ্চলীয় রিভার নাইল রাজ্যে একটি সোনার খনিতে ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন বেসামরিক খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন। রোববার (১১ অক্টোবর) মিশর সীমান্তের কাছে জাবাল আল-উকায়দাত স্বর্ণখনিতে এই হামলা চালানো হয়। সুদানের মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এই তথ্য জানিয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো খবরটি নিশ্চিত করেছে। 


ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মিশরীয় যুদ্ধবিমান রিভার নাইল রাজ্যের ওয়াদি এলাকায় অবস্থিত আল-আকিদাত খনি হিসেবে পরিচিত জাবাল আল-উকায়দাত খনিতে হামলা চালায়। সংগঠনটির মতে, হামলাটি সুদানের ভূখণ্ডের ভেতরেই হয়েছে এবং নিহতরা সবাই বেসামরিক কারিগর খনি শ্রমিক। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ৭২ জন নিহতের সংখ্যা জানানো হলেও যাচাই প্রক্রিয়া এখনও চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, একটি জেট বিমান অন্তত পাঁচবার আঘাত হানে এবং ঘটনার সময় খনিতে কয়েক হাজার শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। 


হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট সুদান ফাউন্ডিং অ্যালায়েন্স (তাসিস) ২০০ জনের বেশি নিহত হওয়ার দাবি করলেও তাদের ওই এলাকায় সরাসরি প্রবেশাধিকার নেই বলে জানিয়েছে। সবগুলো পরিসংখ্যানই এখন পর্যন্ত প্রাথমিক ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। 


এই হামলার জন্য সরাসরি মিশরের বিমান বাহিনীকে দায়ী করেছে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। সংগঠনটি এক্স-এ দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে, মিশরীয় কর্তৃপক্ষ বারবার সোনা ও খনিজ সমৃদ্ধ সীমান্ত অঞ্চলে হামলা চালিয়ে সুদানের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তবে মিশরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিশরীয় সামরিক সূত্র স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফইকে বলেছে, সতর্কতা উপেক্ষা করে মিশরে প্রবেশ করা একটি দলের ওপর বোমা হামলা চালানো হয়েছে। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী দাবি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। 


উল্লেখ্য, এটি চলতি বছরে ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় হামলা। এর আগে গত জুন মাসেও একই খনিতে একই ধরনের হামলায় ২৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। তখন মিশরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তারা মিশরের অভ্যন্তরে অবৈধ সোনা খনন ও অস্ত্র চোরাচালানবিরোধী বড় আকারের অভিযান পরিচালনা করেছে। সুদান ও মিশরের মধ্যকার প্রায় ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের হালাইব ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে এবং এই দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলটি সোনা, অবৈধ বাণিজ্য ও মানব পাচারের রুট হিসেবে পরিচিত। 


২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান যুদ্ধে দুই লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং মানবিক সংকটের কারণে বহু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ কারিগর সোনা খনির দিকে ঝুঁকছেন, যা যুদ্ধের উভয় পক্ষের অর্থায়নের উৎস হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। 


সম্পর্কিত খবর

;