হরমুজ প্রণালিতে ৪৮ ঘণ্টায় ১৯ জাহাজে হামলা ও মার্কিন ডুবোযান আটকের দাবি ইরানের

প্রকাশ : 27 Sep 2026
হরমুজ প্রণালিতে ৪৮ ঘণ্টায় ১৯ জাহাজে হামলা ও মার্কিন ডুবোযান আটকের দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে ১৯টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ ও আরব টাইমস অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে প্রথম রাতে ১২টি এবং দ্বিতীয় রাতে ৭টি জাহাজে এই হামলা চালানো হয়। ইরানের দাবি, জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির অনুমোদনহীন পথে চলাচলের চেষ্টা করার পর তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। আরব টাইমস জানিয়েছে, জাহাজগুলোর পতাকা, কার্গো বা গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি এবং কোনো জাহাজ আটক করা হয়েছে কিনা তাও স্পষ্ট করা হয়নি।


এই হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করে আসছেন। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের এই অভিযান ওয়াশিংটনের ওই দাবির সরাসরি বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সশস্ত্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে।


এদিকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানববিহীন ডুবোযান জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে জব্দ করা যানটি রেমাস ৬০০ নামের একটি অত্যাধুনিক পানির নিচে চলাচলকারী যান। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে এটিকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি রেভল্যুশনারি গার্ডের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যানটি গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং এটি এখন তাদের বিশেষজ্ঞদের কাছে রয়েছে। আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, এটি দ্বিতীয় মার্কিন ডুবোযান, এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর আরেকটি ডাইভ-এলডি ডুবোযান আটকের কথা জানিয়েছিল তারা।


অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নাজুক বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রামিনিয়া। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ওয়াশিংটন আবারও সামরিক আগ্রাসনের পথে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী শত্রুর মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে দিলে তা এই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।


সম্পর্কিত খবর

;