আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছে দুদক

প্রকাশ : 02 Sep 2026
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছে দুদক

স্টাফ রিপোর্টার: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।


বুধবার ২ সেপ্টেম্বর দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ, পদোন্নতি এবং পছন্দের ব্যক্তিদের পছন্দের জায়গায় পদায়নের অভিযোগে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


অভিযুক্ত চারজন হলেন- সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। দুদক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য কমিশনে আসে।


দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল এবং নতুন করে পদায়ন করে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতিতে দেড় কোটি টাকার দুর্নীতি এবং পদোন্নতি প্রাপ্তদের পছন্দের জায়গায় পদায়ন করে আরও প্রায় ২ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৮৮ জন কর্মকর্তার বদলি-পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক। এর পাশাপাশি কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।


অনুসন্ধানের জন্য ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক জাহিদ কালাম।


এদিকে দুদকের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘দুদকের মুখপাত্র সংবাদ সম্মেলন করে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানালেন। প্রতিটা মিডিয়ায় নিউজ হলো, অনুসন্ধান শুরুর আগেই নাকি উনারা প্রমাণ পেয়ে গেছেন। প্রমাণ ও সত্যতা পাওয়ার নিউজে আসিফ মাহমুদের মানহানি করা হলো। কিছুক্ষণ পূর্বে তিনি সাংবাদিকদের গ্রুপে মেসেজ দিয়ে বললেন যে, এই প্রাথমিক সত্যতা শব্দ ব্যবহার না করতে। আসিফ মাহমুদের এই মানহানি করার জন্য দুদক কি কোনো অ্যাপোলজি করবে?’


উল্লেখ্য, এর আগে আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও তদবির-বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান করেছিল দুদক। প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধানের পর গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।


সম্পর্কিত খবর

;