জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ দফা সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : 02 Sep 2026
জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ দফা সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার - বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বুধবার ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫ এর সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয় এবং প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিন অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে সরকার ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।


কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমত, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি কূপ খনন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান ৭টি কূপ খনন শেষ হলে আরও ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপসমূহ খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।


দ্বিতীয়ত, দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।


তৃতীয়ত, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) কে শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে আরও ২টি নতুন রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


চতুর্থত, অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অফশোর এবং অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানে সফলতা এলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।


পঞ্চমত, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন চলমান রয়েছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই টার্মিনাল হতে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ২ বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ২-১টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত টার্মিনালগুলো স্থাপন হলে সামগ্রিকভাবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।


সম্পর্কিত খবর

;