মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট

প্রকাশ : 31 Aug 2026
মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার: মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় একমাত্র মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের (৪৭) মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের ওপর শুনানি শেষে সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।


আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির ও ইমাম হোসেন তারেক। এর আগে গত ২৫ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে ৩১ আগস্ট ধার্য করা হয়েছিল।


মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালে মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। রমজানের ছুটিতে শিশু আছিয়া তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। গত বছরের ৫ মার্চ রাতে বোনের বাড়িতেই বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং পরে হত্যার চেষ্টা চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী আছিয়ার।


এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ চারজনকেই গ্রেপ্তার করে। ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।


মাত্র ১৩ কার্যদিবসে আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। গত ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১৩ মে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় এবং ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বাকি তিন আসামি — নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০) কে খালাস দেওয়া হয়।


ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুসারে গত বছরের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে পেপারবুক তৈরি শেষে চলতি বছরের ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হলে বিশেষায়িত বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। আজ সেই ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের চূড়ান্ত রায়ে নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখলেন হাইকোর্ট।


সম্পর্কিত খবর

;