যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান হারিয়ে বাংলাদেশ, শীর্ষে ভিয়েতনাম

প্রকাশ : 08 Oct 2026
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান হারিয়ে বাংলাদেশ, শীর্ষে ভিয়েতনাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-অগাস্ট) বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় থেকে নেমে তৃতীয় স্থানে এসেছে।


অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-অগাস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা মোট ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ (৪৯.০৭ বিলিয়ন) ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। এর কারণ হিসেবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।


এই আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী ছিল ভিয়েতনাম। দেশটি থেকে আমদানি সামান্য শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে ১০৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে চীন। চীন এই সময়ে ৫৬৩ কোটি ৭ লাখ (৫.৬৩ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম।


আর তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জানুয়ারি-অগাস্টে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ (৫.৩৯ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। তবে এই পতনের হার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর চেয়ে অনেক কম। একই সময়ে ভারতের রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ, পাকিস্তানের ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৯১ ও ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের তুলনামূলক কম পতনের পেছনে শুল্ক সুবিধা কাজ করছে। চীনের ওপর উচ্চ শুল্কের কারণে ক্রেতারা বিকল্প খুঁজছেন। এছাড়া অটেক্সার তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যা চীনের ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশের চেয়ে অনেক কম। আয়তনের হিসাবে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যেখানে চীনের কমেছে ২১ দশমিক ৬১ শতাংশ।


তবে আশার খবরও আছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। শুধু আগস্টে রপ্তানি হয়েছে ৮১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি, যা গত বছরের একই মাসের চেয়ে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-অগাস্টে রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে, যা ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।


একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি ছিল ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে শুধু পোশাকই ছিল ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।


প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। ২০২৩ সালে তা ২৫ শতাংশ কমে ৭ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারে নামে। ২০২৪ সালে সামান্য বেড়ে ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন এবং ২০২৫ সালে প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে ৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।


সম্পর্কিত খবর

;