হুথি ও সৌদি সংঘাত তীব্র, লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে পালাচ্ছেন হাজারো ইয়েমেনি

প্রকাশ : 22 Sep 2026
হুথি ও সৌদি সংঘাত তীব্র, লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে পালাচ্ছেন হাজারো ইয়েমেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হুথি ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে পালাচ্ছেন ইয়েমেনিরা। চলতি মাসে ইরান-সমর্থিত হুথিদের আকস্মিক অভিযানে পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে।


রয়টার্স ও বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণে রাখা হুথিরা চলতি সেপ্টেম্বরে লোহিত সাগরের পুরো উপকূল দখলের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করে। কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা সহ উপকূলীয় এলাকা তাদের দখলে চলে গেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের জন্য বড় ধাক্কা। সামরিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, মোখা দখলের ফলে হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে মাত্র ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছে, যা এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। 


সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরব হুথিদের অবস্থানে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে বলে হুথি সূত্র জানিয়েছে, তবে বিমান শক্তির সুবিধা সত্ত্বেও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী পিছু হটছে। 


মানবিক সংকট দ্রুত অবনতি হচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাবে নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ে প্রায় ৭০০ জন নিহত ও হাজার হাজার আহত হয়েছেন। ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ইয়েমেনি দেশের ভেতরেই ঘরছাড়া হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ নৌকায় করে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকায় পালিয়েছেন। 


সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। উপসাগরীয় সূত্র জানাচ্ছে, নতুন হুথি অভিযান এবং সৌদি পাল্টা হামলায় মানবিক সংকট তীব্র হওয়ায় হাজার হাজার ইয়েমেনি নৌকায় করে জিবুতিতে পাড়ি জমিয়েছেন। এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বিপজ্জনক সংঘাতকে নতুন করে উসকে দেওয়ার হুমকি তৈরি করেছে। 


পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনের ভেতরে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং প্রায় ৩ হাজার ইয়েমেনি সমুদ্রপথে আফ্রিকায় পালিয়েছেন। 


পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৭০ বছর বয়সী আহমদ হাসান জানান, সমুদ্র উত্তাল ছিল, শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছিল এবং কেউই সমুদ্রে অভ্যস্ত নয়।


বিশ্লেষকরা বলছেন, হুথিরা এখন লোহিত সাগর উপকূল থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অবশিষ্ট এলাকা বিচ্ছিন্ন করতে কাহবুব পর্বতমালার কৌশলগত উচ্চতা দখলের চেষ্টা করছে, যা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের অবস্থানকে আরও সুরক্ষিত করবে। এদিকে এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও হুমকি তৈরি করেছে, কারণ সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর ও পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলার পর তেল রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে।


সম্পর্কিত খবর

;