নেপালে মৃত ১০০০ ছাড়াল, সুড়ঙ্গে আটকাদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান

প্রকাশ : 01 Sep 2026
নেপালে মৃত ১০০০ ছাড়াল, সুড়ঙ্গে আটকাদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,০০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও ৩,৯০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬০০ জনেরও বেশি শ্রমিক ত্রিশূলী নদীর তীরে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাদায় ভরা সুড়ঙ্গের বিশাল নেটওয়ার্কে আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 


বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গগুলোতে বাতাস পাম্প করছেন। একটি দল একটি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও ভেতরে কাউকে না পেয়ে ফিরে আসে। 


ভয়াবহ এই দুর্যোগের সূত্রপাত গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ের একটি হিমবাহ ধসের পর। বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল ঢল তিব্বত-নেপাল সীমান্তের শহর ও উপত্যকা জুড়ে তাণ্ডব চালায়। বিশেষ করে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


রয়টার্স জানিয়েছে, চীন, ভারত ও নেপালের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দুর্গম এলাকায় পৌঁছেছে এবং খননযন্ত্র দিয়ে প্রায় ৩০০ শ্রমিককে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করেছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনও অন্তত ৬৩৯ জন শ্রমিক বিভিন্ন বিধ্বস্ত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আটকে আছেন, যেখানে উদ্ধার অভিযানের মূল ফোকাস রয়েছে। 


নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানান, উদ্ধারকাজ পুরোদমে চলছে। ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে একটি পাইপ ঢুকিয়ে ভেতরে বাতাস সরবরাহ শুরু করা হয়েছে। সেনাবাহিনী জানায়, সুড়ঙ্গের মুখ থেকে পানি নিষ্কাশন করে রক ব্রেকার দিয়ে প্রবেশপথ তৈরির চেষ্টা চলছে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া একজন পর্বত গাইড বলেন, মানুষের পক্ষে সুড়ঙ্গে ঢোকা সম্ভব নয়, বুলডোজার ও এক্সকাভেটরের মতো ভারী যন্ত্র প্রয়োজন। 


এই উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন ও নেপালের সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক দল, যেখানে ভারত, কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও অংশ নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে ১১,০০০ এর বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ৯,২০০ জনের বেশি সেনা ও উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। 


নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এক বিবৃতিতে বলেন, হাজার হাজার নাগরিক তাদের বাড়িঘর, পরিবার ও সম্পত্তি হারিয়েছেন। তিনি এই দুর্যোগকে জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের অস্থিতিশীলতার কারণেই এই বন্যা হয়েছে।


বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৩৯টি দেশের ৫৯০ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়া ৪৪ সদস্যের জরুরি ত্রাণ দল পাঠাচ্ছে। চীন ডিএনএ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ, ড্রোন ও পানি বিশুদ্ধকরণ সরঞ্জামসহ দ্বিতীয় দফা ত্রাণ পাঠাবে বলে জানিয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

;