ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

প্রকাশ : 30 Aug 2026
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগের বিস্তার রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, মশার লার্ভার উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা জোরদার করা হচ্ছে।

আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুরের মতো বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি করপোরেশনগুলো সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। মশার লার্ভা যেখানে জন্ম নেয়, সেসব স্থান চিহ্নিত করে পানি জমতে না দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনসচেতনতার পাশাপাশি কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ওষুধ স্প্রে ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

প্রতিমন্ত্রী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাগণ, ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরের ১১টি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

সম্পর্কিত খবর

;