বিতর্কিত মানবাধিকার কমিশন বিলের প্রতিবাদে

সংসদীয় কমিটির বৈঠক বর্জন করল জামায়াত

প্রকাশ : 30 Aug 2026
সংসদীয় কমিটির বৈঠক বর্জন করল জামায়াত

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিতর্কিত বিলের প্রতিবাদে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।


রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৩য় বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এমরান আহমদ চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা, মো. মনজুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং আলফারুক আব্দুল লতীফ অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


জামায়াতের দুই সদস্য ড. মো. নাজিবুর রহমান ও অ্যাডভোকেট আল ফারুক আবদুল লতিফ বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও বিলটি পর্যালোচনার জন্য উত্থাপনের পর তারা বৈঠক বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।


বৈঠক বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করে জামায়াতের সংসদীয় দলের মুখপাত্র ড. মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, বহু বিতর্কিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিলটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কনভেনশন ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অংশীজন ও সুধী সমাজও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


তিনি বলেন, বিলটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর পর কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অথচ এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অংশীজন, মানবাধিকারকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এভাবে তড়িঘড়ি করে বিল পাস করানোর প্রক্রিয়ায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে রবার স্ট্যাম্পে পরিণত করা হচ্ছে। আমরা এ ধরনের প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাই না এবং এর কোনো দায়ভারও নিতে চাই না।


নাজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত আগের অধ্যাদেশ বাতিলের পর সরকার আরও শক্তিশালী একটি আইন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু নতুন করে যে আইন আনা হয়েছে, সেটিকে আরও দুর্বল করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে কমিশনের স্বাধীনভাবে তদন্ত করার ক্ষমতাও সীমিত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিলটি জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক জোট গানরি (GANHRI) এর স্বীকৃত মানদণ্ড, প্যারিস প্রিন্সিপালস এবং প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও ঘোষণাগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।


তিনি আরও বলেন, যেহেতু সরকার ভুক্তভোগী জনগণ, অংশীজন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ রহিত করেছে এবং তার চেয়ে দুর্বল ও সীমিত পরিসরে একটি বিল সংসদে উপস্থাপন করেছে, সেহেতু আমরা কমিটির বিরোধীদলীয় সদস্যরা এই বিলের কোনো আলোচনা বা পর্যালোচনায় অংশ না নেওয়া এবং বিলটি পাসের প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি একটি কালো আইন।


অন্যদিকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে, বৈঠকে 'Transfer of Property (Amendment) Bill, 2026' ও 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬' এর ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিলসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;