পাকিস্তানে শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ভাঙা নিয়ে বিতর্ক, তদন্ত ও পুনর্নির্মাণের দাবি

প্রকাশ : 03 Sep 2026
পাকিস্তানে শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ভাঙা নিয়ে বিতর্ক, তদন্ত ও পুনর্নির্মাণের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নারোওয়াল জেলায় প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরোনো একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট সিরাজ গ্রামে অবস্থিত প্রায় এক হাজার বর্গমিটার জায়গা জুড়ে থাকা এই প্রাচীন মন্দিরটি পাশের মাদ্রাসার জমি সম্প্রসারণের জন্য ভেঙে ফেলা হয়েছে। লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মন্দিরটির কোনো আনুষ্ঠানিক নাম সরকারি নথিতে নেই, তবে এটি অঞ্চলের অন্যতম পুরোনো হিন্দু স্থাপনা হিসেবে পরিচিত ছিল। 


এ ঘটনার পর পাকিস্তান মসিহা মিল্লাত পার্টি (পিএমএমপি) সহ সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা অভিযোগ করেছেন, ধর্মীয় উগ্রপন্থি একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মন্দিরটি ভেঙে ইট, গম্বুজের ধাতব অংশসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নিয়েছে। তিনি গত ২৮ আগস্ট পাঞ্জাবের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও কর্মকর্তাদের গাফিলতির তদন্ত দাবি করেছেন। কোনো কোনো প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভাঙচুরের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত কট্টরপন্থি দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানের (টিএলপি) সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জড়িত, যদিও এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। 


মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। পিএমএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, মন্দির সংলগ্ন জমি ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ইটিপিবি) আগে একটি মাদ্রাসার জন্য লিজ দিয়েছিল। ভাড়া পরিশোধ না হওয়া এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হওয়ায় সেই লিজ বাতিল করা হয়। এরপরও ওই সম্পত্তির কিছু অংশ অবৈধভাবে দখল হয়ে ছিল বলে রাজস্ব বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এমনকি ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ইটিপিবির শিয়ালকোটের ডেপুটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর লিজ বাতিল করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও সম্পত্তি সিল করার নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। 


অন্যদিকে সরকারি সংস্থা ইটিপিবি ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রানা ইফতিখার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে মন্দিরটি ধসে পড়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন মন্দিরটি ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরোনো এবং সংলগ্ন জমি মাদ্রাসার জন্য লিজ দেওয়া হলেও মন্দিরের নিজস্ব জমি কাউকে লিজ দেওয়া হয়নি। পাঞ্জাব সরকারও ইটিপিবির এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছে। সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী সরদার রমেশ সিং অরোরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, মন্দিরের একটি অংশ ধসে পড়েছে এবং সরকার তা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 


স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা এবং নারোওয়াল জেলা শান্তি কমিটির সদস্য রতন লাল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং মন্দিরটি আগের আদলে পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তার অভাবে সম্প্রদায়ের মানুষ এখন মন্দির এলাকায় যেতে ভয় পাচ্ছেন। সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীরা পাঞ্জাব সরকারের কাছে হিন্দু মন্দির, শিখ গুরুদ্বারা ও খ্রিস্টান গির্জাসহ সব ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত খবর

;