বিশকেকে এসসিও সম্মেলনে শি-পুতিন-মোদি বৈঠক, বহুমেরু বিশ্ব নিয়ে নতুন আলোচনা

প্রকাশ : 01 Sep 2026
বিশকেকে এসসিও সম্মেলনে শি-পুতিন-মোদি বৈঠক, বহুমেরু বিশ্ব নিয়ে নতুন আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা-এসসিওর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চীন, রাশিয়া ও ভারতের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশকেক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের পাশাপাশি তাঁরা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নিচ্ছেন।


সোমবার (৩১ আগস্ট) শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠক করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, দুই নেতা বিশকেকে সম্মেলনের সাইডলাইনে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে শি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লেও চীন ও রাশিয়ার সম্পর্কের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। দুই দেশ আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। 


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) জানান, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের মধ্য এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে এই বৈঠক হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৩১ আগস্ট বিশকেকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। 


এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর, যা এসসিওর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। আয়োজক কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের সভাপতিত্বে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে টেকসই শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে। সম্মেলনে ১০ সদস্য রাষ্ট্রের নেতারা অংশ নিচ্ছেন এবং বিশকেক ঘোষণাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি গৃহীত হওয়ার কথা রয়েছে। 


আউটলুক ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্মেলনের মূল এজেন্ডায় রয়েছে নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ও ডিজিটাল সহযোগিতা। আল জাজিরা জানিয়েছে, এবারের আলোচনায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এবং নতুন বাণিজ্য ও পরিবহন করিডোর নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর এবং উত্তর সাগর রুট নিয়ে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। 


বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা নীতির প্রেক্ষাপটে এসসিওকে চীন ও রাশিয়া পশ্চিমা আধিপত্যের বাইরে একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে ভারত এটিকে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার সুযোগ হিসেবে দেখছে।


সম্পর্কিত খবর

;