রাবির জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রদর্শনীতে বিতর্কিত শিল্পকর্ম, সমালোচনার পর সরিয়ে নিল প্রশাসন

প্রকাশ : 10 Aug 2026
রাবির জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রদর্শনীতে বিতর্কিত শিল্পকর্ম, সমালোচনার পর সরিয়ে নিল প্রশাসন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীতে একটি শিল্পকর্ম নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সমালোচনার মুখে সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিল্পকর্মটি প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান।


রোববার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের পাশে তিন দিনব্যাপী এ চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও বিভিন্ন ঘটনা শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।


প্রদর্শনী শুরুর পর সেখানে থাকা একটি শিল্পকর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। শিল্পকর্মটির উপস্থাপন ও এর সঙ্গে যুক্ত বার্তা নিয়ে আপত্তি ও সমালোচনা প্রকাশ করা হয়। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এলে সোমবার সকালে সেটি প্রদর্শনীস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।


বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান জানান, বিতর্ক তৈরি হওয়া শিল্পকর্মটি সোমবার সকালে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে শিল্পকর্মটি কেন প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছিল এবং কার সিদ্ধান্তে তা প্রদর্শিত হয়েছিল—এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিতর্কিত শিল্পকর্মটির সঙ্গে ‘একাত্তরের চেয়ে চব্বিশ ওজনে ভারী’ ধরনের একটি বক্তব্য বা বার্তার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই মূলত সমালোচনা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শিল্পকর্মটির শিল্পী, প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং এর মূল বক্তব্য সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ওয়েবসাইটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে শিল্পকর্ম ও প্রকাশনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের তথ্যও রয়েছে। দপ্তরটির প্রকাশনা তালিকায় ‘শিল্পকর্মে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ নামে একটি প্রকাশনার উল্লেখ রয়েছে।


জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ পরিবার ও আহতদের সংবর্ধনা, সেমিনার এবং বিজয় র‌্যালিসহ একাধিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ আগস্টের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিনেট ভবন চত্বর থেকে ছাত্র-জনতার বিজয় র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছিল।


এবারের তিন দিনব্যাপী চিত্র প্রদর্শনীও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও আন্দোলনের বিভিন্ন দিক শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার ধারাবাহিক আয়োজনের অংশ। তবে প্রদর্শনীতে একটি শিল্পকর্ম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় আয়োজনটির উদ্দেশ্য ও শিল্পকর্ম নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


শিল্পকর্ম নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সেটি সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রদর্শনীটি বন্ধ করা হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অন্যান্য শিল্পকর্ম প্রদর্শনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে শিল্পের স্বাধীনতা ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে শিল্পের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাকে তুলনা বা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ভাষা ও বক্তব্যের যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান—দুটি ভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ঘটনাকে কোনো শিল্পকর্মে তুলনামূলকভাবে উপস্থাপন করা হলে তার ব্যাখ্যা কী, শিল্পীর উদ্দেশ্য কী এবং দর্শকের কাছে সেটি কী বার্তা দিচ্ছে—এসব বিষয় নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।


এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিতর্কিত শিল্পকর্মটি প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও এর বিস্তারিত প্রেক্ষাপট, শিল্পীর বক্তব্য কিংবা প্রদর্শনীতে শিল্পকর্মটি অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্যের জন্য প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীতে এমন বিতর্ক নতুন করে ক্যাম্পাসে ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর উপস্থাপন, শিল্পের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসেছে। প্রদর্শনী শেষ হওয়ার আগে প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানায় কি না, সেটিও এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সম্পর্কিত খবর

;