এক বছরে নিহত ১১৩৯
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচক বা গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্সে (GTI) প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Institute for Economics & Peace (IEP) প্রকাশিত Global Terrorism Index 2026 অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবাদের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ এখন পাকিস্তান। দেশটির GTI স্কোর ৮ দশমিক ৫৭৪।
২০২৫ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দেশটিতে ১ হাজার ৪৫টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ১ হাজার ৯৮টি হামলার তুলনায় কিছুটা কম। তবে হামলার সংখ্যা কমলেও প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের সামগ্রিক সন্ত্রাসবাদ-প্রভাব সূচকে বড় অবনতি হয়েছে।
IEP-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা টানা ষষ্ঠ বছর বেড়েছে। অর্থাৎ, হামলার সামগ্রিক সংখ্যা সামান্য কমলেও হামলাগুলোর প্রাণঘাতী মাত্রা বেড়েছে।
সূচকে পাকিস্তানের উত্থানের পেছনে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ২০২৫ সালে পাকিস্তানে সংঘটিত মোট সন্ত্রাসী হামলার ৭৪ শতাংশের বেশি এবং সন্ত্রাসবাদে নিহতদের ৬৭ শতাংশের বেশি এসব দুই অঞ্চলে ঘটেছে।
প্রতিবেদনে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপিকে পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে সংগঠনটির সঙ্গে ৫৯৫টি হামলার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় এবং এসব হামলায় ৬৩৭ জন নিহত হন। পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মোট মৃত্যুর ৫৬ শতাংশের জন্য টিটিপিকে দায়ী করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় সংগঠনটির হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৩ শতাংশ বেড়েছে।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রযুক্তির ব্যবহারও পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ড্রোনের মতো নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে হামলার প্রাণঘাতী প্রভাব বাড়ছে।
বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি বা বিএলএও ২০২৫ সালে পাকিস্তানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। IEP-এর প্রতিবেদনে বেলুচিস্তানের কোয়েটা রেলস্টেশনের কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন দখলের ঘটনাকে ওই বছরের পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীরা ট্রেনের যাত্রীদের জিম্মি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনায় ২১ জন জিম্মি, চারজন সামরিক সদস্য এবং ৩৩ জন হামলাকারী নিহত হন।
পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের এই উত্থানের সঙ্গে আফগানিস্তানের পরিস্থিতিরও যোগসূত্র রয়েছে বলে IEP-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সূচকের শীর্ষ পাঁচে পাকিস্তানের পর রয়েছে বুরকিনা ফাসো, নাইজার, নাইজেরিয়া ও মালি। শীর্ষ ১০-এর ছয়টি দেশই সাব-সাহারান আফ্রিকার। ফলে বৈশ্বিকভাবে সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র এখনো আফ্রিকার সাহেল ও আশপাশের অঞ্চলগুলোতে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত।
তবে বৈশ্বিক চিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত প্রবণতাও দেখা গেছে। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর সংখ্যা ২৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৮২ জনে নেমে এসেছে। একই সময়ে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যাও ২২ শতাংশ কমে ২ হাজার ৯৪৪টিতে দাঁড়িয়েছে। IEP বলছে, উভয় সংখ্যাই ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
অর্থাৎ বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদে সামগ্রিক প্রাণহানি কমলেও এর প্রভাব কয়েকটি দেশে আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে। পাকিস্তানের অবস্থান সেই বৈপরীত্যের অন্যতম বড় উদাহরণ। একদিকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ কমেছে, অন্যদিকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে এবং দেশটি প্রথমবারের মতো GTI-এর সর্বোচ্চ ঝুঁকির অবস্থানে উঠে এসেছে।
Global Terrorism Index মোট ১৬৩টি দেশকে মূল্যায়ন করে। এতে শুধু হামলার সংখ্যা নয়, সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ও আহত মানুষের সংখ্যা, হামলার মাত্রা এবং জিম্মি করার মতো ঘটনাসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে কোনো দেশের অবস্থান নির্ধারণে শুধু মোট হামলার সংখ্যা নয়, হামলার মানবিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পাকিস্তানের ক্ষেত্রে জিম্মি করার ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে ১০১ জনকে জিম্মি করার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ৬৫৫-তে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে সহিংসতার ঘনত্বও অনেক বেশি ছিল।
নতুন সূচকের ফলাফল তাই পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির গভীর সংকটের একটি চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে টিটিপি ও বিএলএর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি এবং বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত দেশটির সন্ত্রাসবাদ-ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই প্রবণতা মোকাবিলায় শুধু নিরাপত্তা অভিযান নয়, সীমান্ত পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক-সামাজিক কারণগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের পূর্বাঞ্চলে আছড়ে পড়েছে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন। ভয়াবহ ঝড়, প্রবল বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২ ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়া থেকে ভারত মহাসাগর ও ভারত পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে মস্কো। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন বলেছেন, ভারত মহাসাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার ত ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তিন দেশের শীর্ষ নেতারা চুক্ত ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সিউটায় (Ceuta) ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশকে কেন্দ্র করে ইতালি ও স্পেনের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। এর জেরে ইতালি থেকে আকাশ ও সমুদ্রপথে স্পেনে আসা যাত্র ...
সব মন্তব্য
No Comments