এসএসসিতে ৩১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি

প্রকাশ : 10 Aug 2026
এসএসসিতে ৩১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি

স্টাফ রিপোর্টার: চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীই অনুত্তীর্ণ হয়েছে। একই সময়ে ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।


সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও মন্ত্রী হিসেবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে।


প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬৬৯টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।


শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিষ্ঠানই বেশি। এ বোর্ডের অধীন ২২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। ফলে মোট ৩১২টি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের বড় অংশই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত।


শতভাগ পাস ও শতভাগ ফেল—দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাতেই গত বছরের তুলনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে ৯৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছিল। একই বছর মাত্র ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে ৬৬৯টিতে নেমেছে, আর শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১২টিতে।


অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ৩১৫টি। অন্যদিকে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৭৮টি। এ পরিসংখ্যান সামগ্রিক ফলাফলের অবনতির একটি চিত্র তুলে ধরছে।


এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে গড় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট।


ফলাফলে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও কমেছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।


সামগ্রিকভাবে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে কম পাসের হার এবং শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি—দুই দিক থেকেই এবারের ফলাফল শিক্ষা খাতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল এবং শেষ হয় ২০ মে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল বলে আগের তথ্য জানিয়েছিল শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানতে পারছে। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটেও ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি ওয়েবভিত্তিক ফল প্রকাশের ব্যবস্থায় পরীক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফল দেখার সুবিধা রাখা হয়েছে।


শূন্য পাস করা ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল এবার শিক্ষা প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হওয়ার পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষকসংকট, পাঠদানের পরিবেশ, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কারণ থাকতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কারণ চিহ্নিত করতে পৃথকভাবে তথ্য যাচাই ও তদন্ত প্রয়োজন।


অন্যদিকে ৬৬৯টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পাসের ফলাফলও এবারের ফলাফলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। একই পরীক্ষায় একদিকে কিছু প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে, অন্যদিকে কয়েকশ প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে—ফলে প্রতিষ্ঠানভেদে শিক্ষার মান ও ফলাফলের বড় পার্থক্যও সামনে এসেছে।


এবারের ফলাফলে সামগ্রিক পাসের হার, জিপিএ-৫ এবং শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা—তিনটি সূচকেই গত বছরের তুলনায় অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

;