তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রকাশ : 10 Aug 2026
তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


ভারতীয় হাইকমিশনারের কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী মনোভাব নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার ভারতের অভিপ্রায়ের কথা জানান তিনি।


বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়েও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।


প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। এ সময় দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় দায়িত্ব পালনের গত দুই মাসের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।


দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সাক্ষাৎ এমন এক সময়ে হলো, যখন ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশই ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছে। গত ২৯ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সেদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের এমন কোনো সমস্যা নেই, যার সমাধান করা সম্ভব নয়।


ওই সময় দীনেশ ত্রিবেদী আরও জানিয়েছিলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে এবং তার ভারত সফর হলে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আরও অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময়সূচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের ওপর নির্ভর করবে।


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও ওই বৈঠকের পর জানিয়েছিলেন, ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে কিছু ‘বিরক্তির বিষয়’ রয়েছে এবং সেগুলো সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি জানান, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের আমন্ত্রণ বাংলাদেশ সরকার পর্যালোচনা করছে। সম্মেলনটি আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


এর আগে গত ২৭ এপ্রিল ভারত সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে সময় জানায়, ত্রিবেদী শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।


দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী। তিনি দীর্ঘ সময় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।


বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে আসছেন। দায়িত্ব নেওয়ার আগে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গেও তার বৈঠক হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশ-ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় উঠে আসে।


আজকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সেই ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক বৈঠক, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা এবং ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ—সব মিলিয়ে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে।


দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি, ভ্রমণ ও ভিসা, নিরাপত্তা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক আলোচনায় উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থ ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর আজকের বৈঠককে চলমান ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

;