ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, মাদ্রাসা ও ওয়াকফ সম্পত্তি ধ্বংস এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে উচ্ছেদ ও সড়ক সম্প্রসারণের অজুহাতে শতাব্দীপ্রাচীন মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে শত শত বছরের পুরনো ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের অংশবিশেষ ভেঙে ফেলার ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয় মুসলিমদের প্রতিবাদকে প্রশাসনিক বলপ্রয়োগ ও গ্রেফতারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের মতো একাধিক রাজ্যে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক নির্দেশনাকে পাশ কাটিয়ে ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার যে 'বুলডোজার নীতি' কার্যকর করা হচ্ছে, তা ভারতের নিজস্ব ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে ভারতের প্রায় ২১ কোটি মুসলিম ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এক সামাজিক ও আইনি প্রান্তিককরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে তারা মনে করেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা CAA, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা NRC নিয়ে বিতর্ক এবং সর্বশেষ ওয়াকফ সংশোধন আইন, ২০২৫ এর মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর সরকারি হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের পরিধি বাড়ানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এটি মুসলিমদের ধর্মীয় ও সম্পত্তিগত অধিকারের জন্য উদ্বেগের কারণ বলে তারা জানান।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মৌলিক নাগরিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতাও সংকটের মুখোমুখি। প্রকাশ্য স্থানে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, পোশাকের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ এবং গবাদি পশু পরিবহন বা বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে হামলা ও গণপিটুনির মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া মুসলিমবিদ্বেষের কারণে কর্মক্ষেত্র ও আবাসন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও মুসলিমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে ভুক্তভোগীরা ন্যায্য আইনি প্রতিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
তারা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে মুসলিমদের অবদান ও ইতিহাস উপেক্ষা করা এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলোর নাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে মুছে ফেলার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য ও সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারত ঐতিহাসিকভাবেই একটি বহুত্ববাদী ও বহুধর্মীয় রাষ্ট্র। সেখানে কোনো নির্দিষ্ট একক আদর্শের রাজনৈতিক বা সামাজিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। ধর্মীয় মতপার্থক্যের কারণে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার এই অপচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ ও ওআইসিকে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের জানমাল, সম্মান ও ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর কূটনৈতিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বৈষম্যমূলক ও দমনমূলক নীতি পরিহার করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্য বিশিষ্ট বিদ্যমান আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এক সংশোধিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে জান ...
স্টাফ রিপোর্টার: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংকট এবং বেহাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।মঙ্গ ...
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা আতাত না করে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। একই সাথে তিনি বলেছেন, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে জয় ...
স্টাফ রিপোর্টার: মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল।আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আ ...
সব মন্তব্য
No Comments