মণিপুরে নতুন করে সংঘাত, দুই পৃথক ঘটনায় নিহত ৫

প্রকাশ : 02 Nov 2026
মণিপুরে নতুন করে সংঘাত, দুই পৃথক ঘটনায় নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথক দুই ঘটনায় রাজ্যে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ড ও ডেইলি পাইওনিয়ার এ তথ্য জানিয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার নোনি জেলার কেকরু নাগা গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে গোলাগুলিতে কুকি-জো সম্প্রদায়ের ৩ সদস্য নিহত হয়েছে। নোনি নাগা অধ্যুষিত জেলা হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


এছাড়া সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরও ২ ব্যক্তির মরদেহ রোববার সকালে কাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়। নিহতদের নাম থাংগিনলুন কংলোই, বয়স ২১ এবং পাওগিনলাল হ্যাংসিং, বয়স ২০ বলে ডেকান হেরাল্ড জানিয়েছে। তারা ২৮ অক্টোবর থেকে সেনাপতি জেলার তাফৌ কুকি গ্রাম থেকে নিখোঁজ ছিলেন। মণিপুর পুলিশ, সিআরপিএফ, কোবরা, আসাম রাইফেলস ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের যৌথ দল তল্লাশি চালিয়ে জাতীয় সড়ক-২ সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।


এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এনএসসিএন-আইএম এবং জেডইউএফ-কে দায়ী করেছে কুকি সংগঠনগুলো। কুকি ইনপি মণিপুর এবং কুকি হিউম্যান রাইটস ফোরাম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে। যদিও এনএসসিএন-আইএম তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।


দুজনের মরদেহ উদ্ধারের পর কাংপোকপিতে কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি সাধারণ অবরোধের ডাক দেয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করে নিরাপত্তা বাহিনী। রাজ্যের দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেন ও লোসি দিখো এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।


উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে জাতিগত সংঘাতে উত্তপ্ত মণিপুর। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ফেব্রুয়ারি থেকে নাগা-কুকি দ্বন্দ্বে ৬০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছে। নতুন এই হত্যাকাণ্ডের ফলে রাজ্যে ফের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;