৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি

চতুর্থ দিনেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর অর্ধশতাধিক যানবাহন

প্রকাশ : 02 Nov 2026
চতুর্থ দিনেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর অর্ধশতাধিক যানবাহন

স্টাফ রিপোর্টার: ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে চতুর্থ দিনেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা। বিক্ষোভ চলাকালে অর্ধশতাধিক যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


সোমবার ২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা দলে দলে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা মহাসড়কে আটকে থাকা যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ প্রায় অর্ধশতাধিক যানবাহন এবং সড়কের দুপাশের দোকানপাটে ভাঙচুর চালায়।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ত্রিমুখী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে পুরো শিল্পাঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।


বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর, হরিণহাটিসহ আশপাশের অধিকাংশ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়। মহাসড়ক দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় কালিয়াকৈর থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে যান চলাচল অচল হয়ে পড়ে, ফলে দূরপাল্লার যাত্রী ও অফিসগামী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।


কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, সকালে শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ সরে যাওয়ার অনুরোধ জানালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সূত্রপাত হয়।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন। সহকারী কমিশনার মো. আরিফ হোসাইন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া র‌্যাবও মোতায়েন করা হয়েছে।


আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।


সম্পর্কিত খবর

;