অক্টোবরে ২৪০ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার, ধর্ষণের শিকার ৫১ জন

প্রকাশ : 02 Nov 2026
অক্টোবরে ২৪০ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার, ধর্ষণের শিকার ৫১ জন

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সদ্যবিদায়ী অক্টোবর মাসে ধর্ষণ, হত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা, যৌন নিপীড়ন ও অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২৪০ জন নারী ও কন্যাশিশু। 


বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) সংগঠনটি অক্টোবর মাসের নির্যাতনের এই চিত্র তুলে ধরে। প্রতিবেদনটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ কর্তৃক ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। 


প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে ধর্ষণের শিকার ৫১ জনের মধ্যে ৩৪ জন কন্যাশিশু এবং ১৭ জন নারী। তাদের মধ্যে ছয়জন কন্যাশিশুসহ ১৬ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে দুই কন্যাশিশুসহ তিনজনকে। এছাড়া ১৭ জন কন্যাশিশুসহ ২১ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। 


একই সময়ে বিভিন্ন কারণে হত্যা করা হয়েছে ৪২ জন নারী ও কন্যাশিশুকে। তাদের মধ্যে সাতজন কন্যাশিশু এবং ৩৫ জন নারী। এছাড়া পাঁচ কন্যাশিশুসহ ২৮ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আত্মহত্যা করেছেন ২৩ জন, যাদের মধ্যে ছয়জন কন্যাশিশু ও ১৭ জন নারী। আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়েছেন দুই কন্যাশিশুসহ সাতজন। 


প্রতিবেদনে যৌন সহিংসতার চিত্রও উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অক্টোবর মাসে ১৫ জন কন্যাশিশুসহ ২১ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন কন্যাশিশুসহ নয়জন যৌন নিপীড়নের এবং সাতজন কন্যাশিশুসহ নয়জন উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন। সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন একজন কন্যাশিশুসহ তিনজন। এছাড়া একজন অ্যাসিডদগ্ধ এবং তিন কন্যাশিশুসহ চারজন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। 


যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাতজন নারী, যাদের মধ্যে ছয়জনকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুজন। এছাড়া দুই কন্যাশিশুসহ আটজন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 


অপহরণের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে ঘটেছে। অক্টোবর মাসে ছয়জন কন্যাশিশু অপহরণের শিকার হয়েছে। এছাড়া নয়জন কন্যাশিশুসহ ২১ জনকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছে একজন কন্যাশিশুসহ দুজন। বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে একজন এবং একজনকে বাল্যবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া দুই কন্যাশিশুসহ সাতজন বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। 


বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে কার্যকর আইনি প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।


রেফারেন্স: আরটিভি অনলাইন ও ঢাকা পোস্টে প্রকাশিত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অক্টোবর মাসের প্রতিবেদন।


সম্পর্কিত খবর

;