উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীতে নৌকা বাইচ, লাখো মানুষের উচ্ছ্বাসে ফিরল গ্রামবাংলার ঐতিহ্য

প্রকাশ : 31 Oct 2026
উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীতে নৌকা বাইচ, লাখো মানুষের উচ্ছ্বাসে ফিরল গ্রামবাংলার ঐতিহ্য

মহাসিন মিঞা লিটন, বরিশাল অফিস: গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য নৌকা বাইচকে ঘিরে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় বরিশালের উজিরপুর। ঢাকঢোলের বাদ্য, বৈঠার ছন্দ আর লাখো দর্শকের উচ্ছ্বাসে শনিবার (৩১ অক্টোবর) মুখরিত হয়ে ওঠে সন্ধ্যা নদীর বুক।


বিকেল ৩টায় শিকারপুর সরকারি শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ‘উজিরপুর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা-২০২৬’। উপজেলা প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থা আভাস (AVAS) এর যৌথ আয়োজনে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাইচকে কেন্দ্র করে মেজর এম. এ. জলিল স্মৃতি সেতু এবং নদীর উত্তর ও দক্ষিণ তীরজুড়ে লাখো মানুষের ঢল নামে। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়।


প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি দল অংশগ্রহণ করে। নদীর নামে নামকরণ করা দলগুলো হলো- কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, আড়িয়াল খাঁ, সন্ধ্যা, ধানসিঁড়ি, তেঁতুলিয়া, পায়রা ও বিষখালী। মাঝি-মাল্লাদের ছন্দময় বৈঠার টানে নদীর বুকে তৈরি হয় টানটান উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্বাগতিক ‘সন্ধ্যা নদী’ দল। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ‘বিষখালী নদী’ দল এবং তৃতীয় হয় ‘সুগন্ধা নদী’ দল। যে সন্ধ্যা নদীর বুকে এই আয়োজন, সেই নদীর নামের দলটির চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবারের আয়োজনে যোগ করে বিশেষ মাত্রা।


প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে যথাক্রমে ৩০ হাজার, ২০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা প্রাইজমানি এবং একটি করে ট্রফি প্রদান করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলকে সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া হয়। নৌকার লড়াই শেষে মেজর এম. এ. জলিল স্মৃতি সেতুর নিচে নির্মিত সুসজ্জিত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কিপার আসমা ফেরদৌসী এবং উন্নয়ন সংস্থা আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা।


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নৌকা বাইচ শুধু বিনোদন নয়, এটি গ্রামবাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও নদীকেন্দ্রিক জীবনধারার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছর নিয়মিত আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানুন, উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম রকিব, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।


সম্পর্কিত খবর

;