স্টাফ রিপোর্টার: বিগত বছরের ন্যায় এবারও এইচএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে রেকর্ড গড়েছে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ ও সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মতো সামাজিক প্রভাবের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। এরআগে শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর পরই এক আনন্দঘন মুহূর্তে মুখরিত হয়ে উঠে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ ক্যাম্পাস। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের খবর পৌঁছাতেই উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ। কারও চোখে আনন্দাশ্রু, কারও মুখে অমলিন হাসি! কেউ শিক্ষকদের পা-ছুঁয়ে, কেউ বা বন্ধুদের জড়িয়ে ধরে ভাগ করে নিচ্ছে সুদীর্ঘ পরিশ্রমের পুরস্কার। কলেজ প্রাঙ্গণের প্রতিটি কোণে আজ একটাই সুর: আমরা পেরেছি!।
এবার ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ থেকে এইচএসসিতে ৩১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩১৫২ জন। পাসের হার ৯৯.৮৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বমোট ১৩১১ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪২ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০৯৯ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১২৮ জন এবং মানবিক বিভাগ থেকে ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। দেশের অন্যতম শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব, ঐতিহ্যবাহী সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এবং ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা। তার দূরদর্শী পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা এবং কো-চেয়ারম্যান আফরোজা রহমান লতা-এর সার্বিক বিষয়ে মাতৃস্নেহমাখা নিয়মিত তদারকি এবং কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ নয়ন-এর ডায়নামিক নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন একদল অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। যুগোপযোগী পরিকল্পনা, কঠোর শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠের অগ্রগতি, প্রতিটি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ এবং শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে একটি কার্যকর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ।
এবারের ফলাফল সম্পর্কে কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ নয়ন বলেন, এই সাফল্য কোনো একক প্রচেষ্টা বা একদিনের অর্জন নয়; বরং শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে প্রতিদিনের অসংখ্য পরিকল্পিত প্রচেষ্টার সমষ্টি এই অর্জন। আমরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়াই। নিয়মিত ক্লাস, নিবিড় তদারকি, শিক্ষকদের আন্তরিকতা আর শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা মিলেই আজকের এই ফল। আমরা বিশ্বাস করি, শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনা থাকলে প্রতিটি শিক্ষার্থীই নিজের সেরাটা দিতে পারে। যারা আজ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে, তাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আর যারা প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তাদের পাশেও আমরা আছি; কারণ জীবনের পথ অনেক দীর্ঘ, আর সম্ভাবনা অফুরন্ত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আত্মবিশ্বাস ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, এবারের পরীক্ষার প্রশ্নের মান, খাতা মূল্যায়ন ইত্যাদি নিয়ে বিভিন্ন খবর শুনে দুশ্চিন্তায় ছিলাম! তাই রেজাল্টের খবর শোনার পর আনন্দে কয়েক মুহূর্ত কিছুই বলতে পারিনি। আমার এত রাতজাগা, এত চেষ্টা, সব যেন এক নিমেষে সার্থক হয়েছে আজ। বাবা-মায়ের দোয়া আর শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা না পেলে এটা সম্ভব হতো না। কলেজের নিয়মানুবর্তিতা আমাকে লক্ষ্যে স্থির থাকতে শিখিয়েছে, আর নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও শিক্ষকদের সহযোগিতা আমার প্রস্তুতিকে আরও সহজ করেছে। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। অভিভাবক নীলুফার আক্তার তাঁর সন্তানের সাফল্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, সন্তানের হাসিমুখ দেখাটাই একজন বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় পাওয়া। এই কলেজ শুধু পড়ায়নি, আমার সন্তানের প্রতি যত্নও নিয়েছে। অনুপস্থিতি কিংবা পড়াশোনার অগ্রগতি, যেকোনো বিষয়ে শিক্ষকেরা নিয়মিত আমাদের জানিয়েছেন। তাঁদের এই দায়িত্বশীলতা আমাদের নিশ্চিন্ত রেখেছে। এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা বরাবরই শিক্ষাকে জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁর পরিকল্পনা ও স্বপ্নের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাঙ্গনে অসংখ্য শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হয়ে উঠেছে। সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের সাফল্যে গর্বিত কণ্ঠে তিনি বলেন, মানুষ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেছিলাম, আজকের ফল সেই স্বপ্নেরই প্রতিফলন। আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই পথচলার শক্তি। এই সন্তানেরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই, যেন তারা মেধা ও সততায় দেশকে আলোকিত করতে পারে। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার এই ফলাফল ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের ধারাবাহিক সাফল্যের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় সংযোজন করেছে। এ অর্জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রয়াসের স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আরও বড় লক্ষ্য নির্ধারণের অণুপ্রেরণা। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক আগামী প্রজন্ম, সাফল্যের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক-এই প্রত্যাশায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ পরিবার।
অপরদিকে ২০২৬ সালে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাফল্য শতকরা পাশের হার ৯৯.০৭, ২২৮। দেশের অন্যতম অগ্রগামী ও প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ২২৮ অ+ ও শতকরা পাশের হার ৯৯.০৭ নিয়ে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেলো। শিক্ষার্থী,শিক্ষক, অভিভাবক ও গভর্নিং বডির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অভাবনীয় অর্জন সম্ভব হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার কাঙ্ক্ষিত সাফল্যে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, তাদের অভিভাবক এবং নবীন শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বসিত। কলেজ ক্যাম্পাসে হয়ে উঠে প্রাণের বন্যা। ২০২৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ ১০৭৭ এবং উত্তীর্ণ হয় ১০৬৭ জন উত্তীর্ণদের প্রিন্সিপাল মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ও প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. ফেরদৌস হোসেন প্রাণঢালা অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন, ডেমরার এই সাড়াজাগানো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির জন্য আমরা গৌরবান্বিত বোধকরি। ফল প্রকাশের পর শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে তাৎক্ষণিক বৈঠকে প্রিন্সিপাল মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা উত্তীর্ণদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রম ও নিষ্ঠা, শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতায় আজ আমাদের অর্জন সার্থক হয়ে উঠেছে। তবে প্রত্যাশা আরও এগিয়ে ছিলো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস প্রতিষ্ঠানের আগামী আরও বর্ণিল ও আরও ঈর্ষণীয় হয়ে উঠবে। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠান ধন্য ও কৃতজ্ঞ। এবছরের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৫৯ , ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ২৭ ও মানবিক বিভাগ থেকে ৪২ অ+ অর্জিত হয়েছে । বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী তানজিদা আক্তার বলে, আমার রেজাল্ট আমার আশা পূরণ করেছে, আল্লাহর কাছে আমার হাজার শুকরিয়া। প্রিন্সিপাল স্যারের অনিন্দ্যসুন্দর পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতা বারবার আমাদের স্বপ্ন সফল করে। মা-বাবা ও স্যারদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। কলেজ ইনচার্জ ও গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, একটা ভালো রেজাল্টের জন্য আমরা সবসময় সচেতন থেকে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছি। উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আমার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা রইলো।’ ব্যবসায় শাখার শিক্ষা বিভাগে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী শওরিন জান্নাত সুহীর মা আফরোজা সুলতানা বলেন, প্রিন্সিপাল স্যারের দূরদর্শিতা ও শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আমার মেয়ে ভালো রেজাল্ট করতে পেরেছে। আমি সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে আমার ঋণ স্বীকার করছি। অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনে করেন শ্রেষ্ঠত্বের দৌড়ে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ এগিয়ে যাবে বহুদূর।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে নতুন সংবাদপত্র ‘দৈনিক পঞ্চগড় খবর’ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় উপজেলা পরিষদ হলরুমে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মাধ্যমে পত্রিকাটির শুভ ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো: বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৫০ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই গত বছরের তুলনায় কমেছে।শনিবার বেলা ১১টায় ...
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে রনি (৩২) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার বাড়িঘরে হামলা চা ...
উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়ায় অসহায় ও অসচ্ছল ১১ পরিবারের মাঝে নতুন সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।মানবপ্রেমী প্রফেসর শফিকুর রহমানের অর্থায়নে ও ওয়ান উম্মাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যো ...
সব মন্তব্য
No Comments