বিসিএসের গেজেট আটকে রাজনৈতিক পরিচয়কে মানদণ্ড বানানো যাবে না: এবি পার্টি

প্রকাশ : 01 Oct 2026
বিসিএসের গেজেট আটকে রাজনৈতিক পরিচয়কে মানদণ্ড বানানো যাবে না: এবি পার্টি

ডেস্ক রিপোর্ট: ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারীসহ ৫৭ জনের নাম গেজেট থেকে বাদ পড়েছে। বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।


নেতৃদ্বয় বলেন, বিসিএসের মতো কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পিএসসির সুপারিশ পাওয়ার পরও কারও নিয়োগ আটকে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একটি চাকরি শুধু একজন তরুণের কর্মসংস্থান নয়, বরং একটি পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত আচরণ ও মানবিকতা নিশ্চিত করা উচিত।


তাঁরা বলেন, কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী বা আইনত নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকলে কেবল তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে চাকরি আটকে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। একজন প্রার্থীর মূল্যায়ন হতে হবে তাঁর নিজের মেধা, যোগ্যতা, সততা ও ব্যক্তিগত রেকর্ডের ভিত্তিতে,তাঁর বাবা, চাচা বা মামা কোন রাজনৈতিক দল করেন, তার ভিত্তিতে নয়।

নেতৃদ্বয় বলেন, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে কেন্দ্র করে মেধাবীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছিল। যারা তখন এর প্রতিবাদ করেছিলেন, ক্ষমতায় এসে তাঁদের আমলে একই ধরনের অভিযোগ তৈরি হলে তা গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ক্ষমতার পরিবর্তনের অর্থ কেবল সরকার পরিবর্তন নয়,রাষ্ট্রের আচরণ ও বঞ্চনার সংস্কৃতিরও পরিবর্তন হতে হবে।


এবি পার্টির নেতৃদ্বয় ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ পড়া ৫৭ জনকে ( ফৌজদারী অপরাধ জড়িত না থাকলে) গেজেটে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা অস্বচ্ছ ও হয়রানিমূলক ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া থেকে চাকরিপ্রত্যাশীদের মুক্তি দেওয়ার  আহ্বান জানান।

তাঁরা বলেন, মজলুমের কাতার থেকে ক্ষমতায় এসে যদি একই বঞ্চনার সংস্কৃতি চালু করা হয়, জনগণ তা মেনে নেবে না। ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রের আচরণের পরিবর্তনই জনগণের প্রত্যাশা।


সম্পর্কিত খবর

;