বিমান সৌদিতে জরুরি অবতরণ

ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে পাইলটকে ছুরিকাঘাত, যাত্রীদের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল ১৮০ প্রাণ

প্রকাশ : 01 Oct 2026
ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে পাইলটকে ছুরিকাঘাত, যাত্রীদের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল ১৮০ প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট FZ1073-এ মাঝ আকাশে এক পাইলট আরেক পাইলটকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করলে যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে জাপটে ধরে নিয়ন্ত্রণ নেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।


মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফ্লাইটটি জর্ডানের আকাশসীমা অতিক্রম করার সময় এ ঘটনা ঘটে। ফ্লাইদুবাই নিশ্চিত করেছে, ফ্লাইট FZ1073 দুবাই থেকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে একটি ঘটনার সম্মুখীন হয় এবং পরে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী বিমানটি দুই মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় ১৭,৪০০ ফুট নিচে নেমে যায়। 


ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও যাত্রীদের বরাতে জানা গেছে, ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করেন কো-পাইলট। পরে বিমানে থাকা আরও দুজন পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং নিরাপদে অবতরণ করান। হামলাকারীকে বেঁধে ফেলেন যাত্রীরা। 


যাত্রীদের সহায়তায় পাইলটকে নিয়ন্ত্রণের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন যাত্রীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টকে বলেন, একজন পাইলট অপর পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। তবে ককপিটের কাছাকাছি থাকা কয়েকজন যাত্রী হামলাকারীকে ককপিট থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন। 


বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যাত্রী আলমোগ ইতালি বলেন, সামনে দুজন পাইলট ছিলেন, একজন আরেকজনকে ছুরিকাঘাত করে এবং পেছনে থাকা দুজন রিলিফ পাইলট যারা পরবর্তী ফ্লাইট পরিচালনার কথা ছিল তারা এসে বিমানটিকে স্থিতিশীল করেন। তাদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ ছিলেন। 


আরেক যাত্রী ইয়ানিভ, যিনি বিমানটিকে নোজডাইভ থেকে টেনে তোলেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বলেন, "যখন আমি ভেতরে গেলাম, আমি দেখলাম সন্ত্রাসী কন্ট্রোলে, দুই সিটের মাঝখানে। কোনো পাইলট সিটে ছিলেন না। আমি সন্ত্রাসীকে ধরে প্রথমে বাইরে টেনে আনি।" তিনি বলেন, হামলাকারী বিমানের কন্ট্রোল নষ্ট করার চেষ্টা করছিল। তিনি মজা করে বলেন, তিনি জানতেন কী করতে হবে কারণ তিনি 'Mayday' ডকুমেন্টারি দেখেন। 


আরেক যাত্রী জভিকা মানেস জানান, হামলাকারীকে কাবু করতে প্রায় ২০-২৫ মিনিট লেগেছিল, তিনজন ইসরায়েলি কর্ডযুক্ত হেডফোন দিয়ে তাকে বেঁধে ফেলেন। তার স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে সামনের টয়লেটে যাওয়ার সময় ককপিটে চিৎকার শুনতে পান এবং এরপর পাইলট রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিট থেকে পড়ে যান বলে তিনি জানান। 


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, "ফ্লাইট চলাকালীন, দেশের কাছাকাছি আসার সময়, একজন পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে এবং স্পষ্টতই বিমানটিকে সবাইকে নিয়ে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করে।" তিনি যাত্রীদের "হিরো" বলে অভিহিত করেন যারা "বড় বিপর্যয় রোধ করেছে"। তিনি আরও জানান, ছুরিকাঘাতকারী পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। 


ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘটনাটিকে "জিহাদি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা" বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, এটি "কেবল কয়েকজন ইসরায়েলি যাত্রীর সাহসিকতার কারণে ব্যর্থ হয়েছে যারা ককপিটে ঢুকে সন্ত্রাসীকে কাবু করে এবং নিজ হাতে বিমানের নিয়ন্ত্রণ অন্য ফ্লাইট ক্রুদের কাছে ফিরিয়ে দেয়"। 


ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, অভিযুক্ত কো-পাইলট ওমানি নাগরিক বলে শনাক্ত করা হয়েছে। ফ্লাইদুবাই বলেছে, ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ অজানা এবং আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে, তাই আগাম অনুমান থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। 


বিমানটিতে ১৭৪ থেকে ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন। সৌদি আরব থেকে একটি বিকল্প ফ্লাইটে তাদের সবাইকে তেল আবিবে নিয়ে আসা হয়েছে। অবতরণের পর যাত্রীরা উল্লাস ও গান গেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন।


সম্পর্কিত খবর

;