নেতানিয়াহুর গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর!

প্রকাশ : 29 Sep 2026
নেতানিয়াহুর গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফর করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই সফরে তিনি আবুধাবিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।


রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এই গোপন সফর অনুষ্ঠিত হয়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ প্রথম এই খবরের খবর প্রকাশ করে, পরে চ্যানেল কান, হারেৎজ ও জেরুজালেম পোস্টও একই তথ্য জানায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম সোমবার রাতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 


ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, একটি ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে গোপন এই সফরের অংশ হিসেবে আবু ধাবিতে যান নেতানিয়াহু। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে সফরটি সম্পন্ন করেন তিনি, যা উচ্চপর্যায়ের ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সফরের জন্য ব্যবহার করে থাকেন। 


সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এসেছে। দুটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয় এবং আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজের একটি প্রতিবেদন। হারেৎজ গত ৯ সেপ্টেম্বর জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রায় ১০ দিন আগে শেখ মোহাম্মদ নেতানিয়াহুকে ফোন করেছিলেন এবং হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের দেওয়া হুমকির কথা জানিয়ে সম্ভাব্য ‘বড় চমক’ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। 


এপি ও ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু শেখ মোহাম্মদকে ওই প্রতিবেদনটি অস্বীকার করতে বলেন। একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার মূল বিষয় ছিল ওই সতর্কতার প্রতিবেদনটি খারিজ করার অনুরোধ। 


নেতানিয়াহুর দপ্তর হারেৎজের প্রতিবেদনকে ‘absolute lie’ বা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং প্রতিবেদনটিকে ‘মনগড়া’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সঙ্গে ‘open and direct lines of communication’ বজায় রাখে এবং প্রাসঙ্গিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে। 


আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, গোপন বৈঠকে ইরান ইস্যু প্রাধান্য পেয়েছিল, যেখানে দুই দেশ গভীর সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, এরপর থেকে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা বেড়েছে। 


সফরটি এমন সময় হলো যখন আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত জানিয়েছে, এই ধরনের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের পদ্ধতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে বলে তারা সামরিক সেন্সরের কাছে অভিযোগ করেছে। 


সম্পর্কিত খবর

;