হামলার মধ্যেই চুক্তির ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

প্রকাশ : 03 Nov 2026
ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের কেশম দ্বীপে সোমবার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।


ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা দেশটির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চালানো সীমিত পরিসরের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের সর্বশেষ ঘটনা। দ্য জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট পরিসরে এবং গোপন রাখা হয়েছে যাতে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করার কোনো বার্তা প্রকাশ্যে না আসে। 


হরমুজ প্রণালীর মধ্যে অবস্থিত কেশম দ্বীপটি ইরানের সবচেয়ে বড় দ্বীপ এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথের মুখে অবস্থিত। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দ্বীপটিতে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখেছেন বলেও সংস্থাটি জানায়।


কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়, কেশম দ্বীপে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে যে মার্কিন সেনাবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। বিস্ফোরণগুলো সোমবার গভীর রাতে দ্রুত পরপর ঘটে বলে ইরনা জানিয়েছে। আধা-সরকারি ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বন্দর নগরী বন্দর লেঙ্গেহতেও সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। 


মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ এসব হামলাকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোই এসব অভিযানের উদ্দেশ্য। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু কর্মকর্তা জার্নালকে বলেছেন, হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা সীমিত করা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকেও এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মার্কিন সম্পদের বিরুদ্ধে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারকারী ইরানিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ফক্স নিউজ এবং অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি মার্কিন উড়োজাহাজে গুলি চালানোর প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়। 


হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে। তবে সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত সেন্টকম তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে। 


এদিকে হামলার খবরের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।


ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ কমছে কারণ মানুষ মনে করছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হবে না। তার ভাষায়, “ইরান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি সমঝোতা চায়। এটি ঘটতে পারে!”। এর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালানোর কথা ভাবছেন কিনা জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প “না” বলে জবাব দেন। 


উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ চলছে বলে রয়টার্স উল্লেখ করেছে। ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে সংঘাতের অবসানে সম্ভাব্য চুক্তির আশায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমে যায়। আবার মঙ্গলবার সকালে কেশম দ্বীপে হামলার খবরের পর এশিয়ার বাজারে তেলের দাম ফের বেড়েছে বলেও জানিয়েছে রয়টার্স। 


ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, শান্তির জন্য তেহরানের দাবি স্পষ্টভাবে ওয়াশিংটনকে জানানো হয়েছে এবং এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।



সম্পর্কিত খবর

;