এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু, সুযোগ ১৭ আগস্ট পর্যন্ত

প্রকাশ : 11 Aug 2026
এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু, সুযোগ ১৭ আগস্ট পর্যন্ত

স্টাফ রিপোর্টার: ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন চলবে ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত। ফল আশানুরূপ না হলে কিংবা কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়মে ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে; সরাসরি বা ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবে না।


সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।


ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য প্রতি পত্রে ১৫০ টাকা হারে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজির মতো দ্বিপত্রবিশিষ্ট কোনো বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষণ করতে চাইলে প্রথম ও দ্বিতীয়—দুই পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ দ্বিপত্রের ক্ষেত্রে একটি পত্র নির্বাচন করে আবেদন সম্পন্ন করার সুযোগ নেই।


পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের প্রথমে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টাল rescrutiny.eduboardresults.gov.bd-এ প্রবেশ করতে হবে। সেখানে নির্ধারিত ঘরে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ড্রপডাউন মেনু থেকে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর ওই নম্বরেই এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হবে।


তথ্য দেওয়ার পর পর্দায় পরীক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যে এক বা একাধিক বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ অপশনে যেতে হবে। এরপর নির্বাচিত পত্রের সংখ্যা অনুযায়ী মোট ফি প্রদর্শিত হবে। নির্ধারিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে ফি পরিশোধ করার পর আবেদন পোর্টালে ফিরে এসে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।


ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে টাকা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে পরীক্ষার্থীদের আলাদাভাবে শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে লিখিত আবেদন বা কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় অনলাইনেই আবেদন সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।


আবেদন করার সময় বিষয় নির্বাচনে সতর্ক থাকতে হবে। ফি পরিশোধের আগে নির্বাচিত বিষয়ে ভুল থাকলে ‘মুছে ফেলুন’ অপশনের মাধ্যমে সেটি বাদ দিয়ে নতুন বিষয় নির্বাচন করা যাবে। তবে ফি পরিশোধ হয়ে যাওয়ার পর নির্বাচিত বিষয় পরিবর্তন, বাদ দেওয়া বা আবেদন বাতিল করার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে পরিশোধ করা ফিও ফেরত দেওয়া হবে না।


তবে কোনো পরীক্ষার্থী প্রথম দফায় আবেদন করার পর আরও কোনো বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষণ করতে চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন করে সেই বিষয়ের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে পুনরায় মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ আগে দেওয়া যোগাযোগ নম্বর ব্যবহার করেই অতিরিক্ত বিষয়ের আবেদন সম্পন্ন করা যাবে।


ফল পুনঃনিরীক্ষণকে অনেক সময় ‘বোর্ড চ্যালেঞ্জ’ বলা হলেও এটি নতুন করে উত্তরপত্র মূল্যায়নের পরীক্ষা নয়। পুনঃনিরীক্ষণের উদ্দেশ্য হলো প্রকাশিত ফলাফলে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা। প্রচলিত পুনঃনিরীক্ষণ ব্যবস্থায় উত্তরপত্রের নম্বরের হিসাব, কোনো উত্তর বা অংশে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না এবং ফলাফলে নম্বর যথাযথভাবে সংযুক্ত হয়েছে কি না—এ ধরনের বিষয় যাচাইয়ের সুযোগ থাকে।


শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি কর্নারেও ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ‘এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের নিয়মাবলি’ প্রকাশের তথ্য রয়েছে। একইভাবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডও ২০২৬ সালের এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষণের নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।


ফলে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীদের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবেদন করার আগে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা বোর্ড ও নির্বাচিত বিষয়ের তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্র নির্বাচন করা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।


২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল নিয়ে যেসব শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল পাননি, তাদের জন্য পুনঃনিরীক্ষণই এখন ফল সংশোধনের আনুষ্ঠানিক সুযোগ। তাই আবেদন করতে হলে ১৭ আগস্টের মধ্যে অনলাইনে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর এ আবেদনের সুযোগ আর থাকবে না।

সম্পর্কিত খবর

;