চট্টগ্রাম অফিস: অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের শঙ্কায় পর্যটক এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিবেচনায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির ‘সাজেক ভ্যালি’ পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সন্ধ্যা থেকেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে রাঙ্গামাটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাজেক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের পর্যটকবাহী যানবাহন সাজেক প্রবেশ করতে পারবে না।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে বাঘাইছাট-সাজেক সড়কের মাচালং এলাকায় পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন জানান, বর্তমানে সাজেকে ৭০-৮০টি পর্যটকবাহী গাড়ি ও অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলসহ ৪০০ থেকে ৫০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাদের সাজেক ত্যাগের কথা থাকলেও ধসের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আখতার জানান, সোমবার রাতের ভারী বৃষ্টিতে নন্দারাম এলাকায় সড়কের তিনটি পয়েন্টে পাহাড়ধস হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মাটি সরানোর কাজ করছেন। তবে বড় ধরনের ধস হওয়ায় সড়ক স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত কিছু করার নেই।
এর আগে ভারী বর্ষণে দীঘিনালা-বাঘাইহাট সড়ক ও বাঘাইহাট বাজার প্লাবিত হয়। কাচালং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুবজ চাকমা জানান, রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে ছোটখাটো ধসের কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সকাল ৯টার পর স্থানীয় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় রাঙ্গামাটি শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, লোকনাথ মন্দির ও ভেদভেদি মুসলিম পাড়া এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। শহরের ৯টি ওয়ার্ডে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাঙ্গামাটিতে ৭৭ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে একাধিকবার ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় সাজেক সড়ক বন্ধ হয়ে শত শত পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে সহিংসতার কারণে এক মাসের বেশি সময় সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এতে স্থানীয় ১২০টি রিসোর্ট-কটেজে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
স্টাফ রিপোর্টার: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০১৮ সাল) রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। তারা বর্তমানে যুগ্মসচিব পর্যায়ে কর্ ...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, 'আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদেরকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।'আজ সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ ...
স্টাফ রিপোর্টার: অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অনুসন্ধানী, তথ্যভিত্তিক ও নৈতিক সাংবাদিকতার বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, অভিবাসন খাতে প্র„তারণা, শোষণ ও আই ...
স্টাফ রিপোর্টার: আগামীকাল মঙ্গলবার ২৮ জুলাই সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে মাননীয় ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সাথে সাক্ষাৎ করবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। সংসদ সচিবালয়ের সহকা ...
সব মন্তব্য
No Comments