বোচাগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পোড়ানোর অভিযোগ, স্বাস্থ্য সহকারীকে শোকজ

প্রকাশ : 11 Sep 2026
বোচাগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পোড়ানোর অভিযোগ, স্বাস্থ্য সহকারীকে শোকজ

আহাছানুল মতিন নান্নু  (দিনাজপুর) বোচাগঞ্জ: দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে কমিটির অনুমোদন ছাড়াই কয়েক লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পুড়িয়ে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুর রাহাদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে গিয়ে পোড়ানো ওষুধের চিহ্ন ও অবশিষ্টাংশ দেখা যায়। পরে এসব পোড়ানো সামগ্রীর ওপর ঘাস ও মাটি দিয়ে চাপা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, ওষুধ পোড়ানোর পর এর গন্ধ যাতে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পোড়ানো ওষুধের ওপর ঘাস ও মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট অনেকেই এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানা যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. বিজয় কুমার রায় বলেন, “আমি ওষুধ পোড়ানোর কোনো অনুমতি দেইনি। ওষুধগুলো ২০২২ সালে সরবরাহ করা হয়েছিল এবং ২০২৪ সালে সেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে। ওষুধ পোড়ানোর ঘটনায় স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুর রাহাদকে শোকজ করা হয়েছে।”


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্টোরকিপারের পদ শূন্য থাকায় স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুর রাহাদ স্টোরের দায়িত্ব পালন করছেন।


তবে স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুর রাহাদ বলেন, কয়েকদিন আগে অপারেশন থিয়েটার পরিষ্কার করা হয়েছিল। তার ধারণা, সেখান থেকে পাওয়া ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়ে থাকতে পারে।


তবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো কার নির্দেশে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোনো কমিটির মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ওষুধের সংকট রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের পেছনে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পোড়ানোর ঘটনায় ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে।


হাসপাতালে ওষুধ নিতে আসা শহিদুল ইসলাম নামে এক চায়ের দোকানদার বলেন, “কিছুদিন আগে আমি কারেন্টের শক খেয়েছিলাম। আজও ওষুধ নিতে হাসপাতালে এসেছি। এখানে ওষুধ নেই। অথচ হাসপাতালের পেছনে দেখছি ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে।”


স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল মোস্তাক বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে রাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে। পরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তিনি আসিফ ও রাতুলসহ সেখানে গিয়ে ফেসবুক লাইভ করেন। সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান বলে দাবি করেন তিনি।


ফয়সাল মোস্তাক আরও জানান, বিষয়টি সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অবহিত করা হয়েছে।


তিনি বলেন, “যেখানে সাধারণ মানুষ ওষুধ পায় না, সেখানে রাতের আঁধারে ওষুধ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম বোচাগঞ্জে আর চলতে দেওয়া হবে না। দায়িত্বশীলরা বিষয়টি আমলে নিয়েছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। এখন কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই দেখার বিষয়।”


স্থানীয়দের প্রশ্ন, ২০২২ সালে সরবরাহ করা ওষুধগুলো ২০২৪ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর এতদিন কেন সংরক্ষণ করা হলো, কেন সময়মতো বিতরণ করা হয়নি এবং কীভাবে সেগুলো ধ্বংস করা হলো। একই সঙ্গে কত ধরনের ও কী পরিমাণ ওষুধ ছিল এবং এসব ওষুধের মোট মূল্য কত—তাও তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।


মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংসের ক্ষেত্রে কোনো কমিটি গঠন ও অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, ধ্বংসের প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না এবং কার নির্দেশে ওষুধগুলো পোড়ানো হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

সম্পর্কিত খবর

;