প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ দিয়েছিল ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

প্রকাশ : 15 Sep 2026
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ দিয়েছিল ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের নয়াদিল্লিতে সদ্য অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে একটি ছিল দ্বিপক্ষীয় সফরের, আর অন্যটি বঙ্গোপসাগরীয় বহু-খাতভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের (বিমসটেক) সভাপতি হিসেবে।


মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য জানান।


সদ্য অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না, এ নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পরবর্তীতে তিনি বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও আমন্ত্রিত হন। ফলে তিনি দুটি পৃথক আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন; একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের এবং অন্যটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য।


তিনি জানান, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ওই আমন্ত্রণ এখনও বহাল রয়েছে। এর পাশাপাশি বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্রিকসের রীতি অনুযায়ী আঞ্চলিক জোটের নেতৃত্বে থাকা দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়।


তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল যে, শীর্ষ সম্মেলনে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এককভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেক প্রধান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমন্ত্রণপত্রে তাকে ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ব্রিকসে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবে না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।


এই বক্তব্যের পরই নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া হলো। ভারতের মুখপাত্র আরও জানান, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠক ইতিবাচক ও গঠনমূলক ছিল এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে নিয়মিত যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;