শাপলা থেকে লালদিঘি

৭০% জনগণের গণরায় বাস্তবায়ন না করে থামবো না: আমীরে জামায়াত

প্রকাশ : 06 Sep 2026
৭০% জনগণের গণরায় বাস্তবায়ন না করে থামবো না: আমীরে জামায়াত

চট্টগ্রাম অফিস: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক শান্তিপূর্ণ লংমার্চ শনিবার রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল সোয়া ৮টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে রাত পৌনে ৯টার দিকে লংমার্চটি লালদিঘিতে পৌঁছায়। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। 


সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। এরপর প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, ৬ দফার একটিও ১১ দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের। গত ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট হয়েছে - একটি জাতীয় সংসদ ও আরেকটি সংবিধান সংস্কারের জন্য গণভোট। গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে সংবিধান সংস্কার করা হবে। কিন্তু হ্যাঁ জয়যুক্ত হলেও বিএনপি তা করেনি। 


লালদিঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের ৭০ শতাংশের রায়কে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। আমাদের এ আন্দোলন ঈদের পরের আন্দোলন নয়, এ আন্দোলন জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলন।” তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই, কিন্তু বিল দিতে হচ্ছে জনগণকে। সমাজে হানাহানি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে বিএনপির লোকেরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ধরা পড়লে বলে ওরা আওয়ামী লীগের, তদন্তে দেখা যায় বিএনপির। পরে তারা বলে ওরা গুপ্ত।


তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদ জন্ম নেবে না, জুলাই গণহত্যার বিচার আমরা পাবো। এ সরকার গণভোটের প্রায় ৭০% মানুষের গণরায়কে বাস্তবায়ন না করে জাতিকে অপমান করছে। ৭০% জনগণের গণরায় বাস্তবায়ন না করে আমরা থামবো না। আমাদের লড়াই চলবে। আমরা বাংলাদেশকে বদলাবো, ইনশাআল্লাহ। যারা ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবে, তারা হেরে যাবে। যদি সরকার জুলাই গণহত্যার বিচার না করে তাহলে ১১ দল জনগণের সরকার গঠন করে বিচার নিশ্চিত করবে।” 


সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার কোনো পরিকল্পনা এ সরকারের নেই। বিরোধী দল সমর্থন না দিলে এ সরকার দেশ চালাতে পারবে না। সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। দেশ এখনো আধিপত্যবাদমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত হয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে বিরোধীদল সহযোগিতা করবে, আপনারা দুর্নীতি করলে আমরা এক বিন্দু সহযোগিতা করব না। সংসদ ও রাজপথ আজ একাকার হয়ে গেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমাদের লংমার্চের উদ্দেশ্য কোনো দলীয় বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, উদ্দেশ্য হলো চব্বিশের ছাত্র-জনতা যে স্বপ্ন দেখেছিল স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। স্বপ্ন ছিল গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হবে। দুঃখজনক হলো বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের সাথে গাদ্দারি করছে।


সভাপতির বক্তব্যে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে নিজেদের হক আদায়ের জন্য। অতীতে অনেক সরকার এসেছে, কিন্তু কোনো সরকারের আমলে মাত্র ৬ মাসের মাথায় কেউ বলেনি এ সরকার টিকবে না, কিন্তু এই সরকারের সময় মানুষ এ কথা বলছে।


এর আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনতার সাথে প্রতারণা করলে, জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সরকারকে জনগণ ছাড় দেবে না। সরকার কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটলে তাদের ফেরাতে চট্টগ্রাম থেকেই আন্দোলন শুরু হবে।


গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের ৬ দফা দাবিতে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়। 


লংমার্চের রুটে পূর্ব নির্ধারিত পথসভা হয় নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজের ট্রাকস্ট্যান্ডে, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, চট্টগ্রামের মীরসরাই এবং সবশেষ লালদিঘি ময়দানে। নির্ধারিত পথসভা ছাড়াও বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে আরও বেশ কয়েকটি অনির্ধারিত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথে রাস্তার দুই ধারে শত শত মানুষ লংমার্চকে অভ্যর্থনা জানান।


সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান সহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।


সম্পর্কিত খবর

;